kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

এই ধারা অব্যাহত থাক

রপ্তানি আয়ে সুখবর

১১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এই ধারা অব্যাহত থাক

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো তাদের সাম্প্রতিক তথ্যে বলছে, জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ চার হাজার ৩৩৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার আয় করেছে। যথারীতি এর নেপথ্যে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের বিক্রি বাড়ায় রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের এই অর্জন।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল তিন হাজার ২০৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। আর পুরো অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ তিন হাজার ৮৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার পেয়েছিল। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের জন্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার। আর পুরো অর্থবছরে রপ্তানি থেকে চার হাজার ৩৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

একক মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি এসেছিল গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এসেছিল চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে। মার্চ মাসে এসেছে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়। আর এপ্রিলে ৪৭৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের এপ্রিলের তুলনায় ৫১ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪১ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালের এপ্রিলে ৩১৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল আর চলতি অর্থবছরের এপ্রিলের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৩৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত জুলাই-এপ্রিল সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫.৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ খাত থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯ শতাংশ।

শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশ এগিয়ে চলেছে—দেশপ্রেমিক যেকোনো মানুষের কাছে তা স্বস্তিকর ও আনন্দদায়ক। বাংলাদেশ শুরু থেকেই বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির দেশ হিসেবেই পরিচিত ছিল। এক দশক আগেও বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে। ২০১১-১২ অর্থবছরেও তা ছিল মাত্র ২৪ বিলিয়ন ডলার। এখন আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ক্রমান্বয়ে ভারসাম্য আসছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা শুধু উদ্বৃত্ত নয়, বড় ধরনের উদ্বৃত্ত বাণিজ্যের দেশে পরিণত হব। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। বিদেশি বিনিয়োগের প্রথম শর্ত অবকাঠামো খাতেও দেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। তারই সুফল হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। আর বিনিয়োগ যত বাড়বে, রপ্তানির পরিমাণও তত বাড়তে থাকবে।

আমরা চাই বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকুক। এ জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। ব্যাংকঋণসহ পুঁজির জোগান বৃদ্ধি ও সহজলভ্য করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। সর্বোপরি বাজার বিস্তৃত করা ও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা