kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

দ্বীপ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিন

সেন্ট মার্টিনে বাড়ছে হস্তক্ষেপ

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




দ্বীপ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিন

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। এই দ্বীপ ও এর আশপাশের এলাকা জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। কিন্তু অনেক দিন ধরেই দ্বীপটিতে নানামুখী আগ্রাসন বেড়ে চলেছে। অব্যাহত অত্যাচারের কারণে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি দ্বীপটির অস্তিত্বও ক্রমে হুমকির মুখে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

এসব কারণে ১৯৮৯ সালে দ্বীপটিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। দ্বীপে ভবনসহ স্থাপনা তৈরিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। কিন্তু যথাযথ তত্ত্বাবধান না থাকায় সেসব বিধি-নিষেধ ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত হয়। গড়ে ওঠে হোটেল, মোটেল, কটেজ, রিসোর্টসহ বহু স্থাপনা। কয়েক মাস আগের তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপটিতে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮৮টি রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল ও কটেজ আছে। কমপক্ষে ১১টি রিসোর্টের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, যার মধ্যে ছয়টিই পাকা ভবন। এ অবস্থায় গত ৪ জানুয়ারি সরকার সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ আশপাশের এক হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া (এমপিএ) ঘোষণা করেছে। কিন্তু বন্ধ হয়নি নির্মাণকাজ। তাহলে এসব ঘোষণার অর্থ কী এবং দ্বীপটির অস্তিত্ব রক্ষার উপায় কী?

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, দ্বীপে কাউকে কোনো অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই দ্বীপে যেসব স্থাপনা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না কেন? সরকারি কাজ ছাড়া দ্বীপটিতে ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড পরিবহন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই সেসব পরিবহন করা হচ্ছে। স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনকি দ্বীপে থাকা প্রবাল পাথরও ব্যবহার করা হচ্ছে স্থাপনা তৈরিতে। অভিযোগ আছে, যাঁদের এসব বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন করার কথা তাঁরা বিশেষ কারণে বিধি-নিষেধ লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন। জানা যায়, মাত্র আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপটিতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের শুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ছিল ১০ হাজার ২৬ জন। দ্বীপে পরিবারের অর্থাৎ বসতঘরের সংখ্যা এক হাজার ৪৫৪টি। গত এক বছরে বেড়েছে আরো শতাধিক ঘর। এখানে বহিরাগত লোকজনের বসতঘর রয়েছে পাঁচ শতাধিক এবং প্রতিনিয়ত বাড়ছে দ্বীপে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা।

বিজ্ঞানীদের মতে, দ্বীপটির উপকূল বরাবর প্রবাল তৈরির প্রক্রিয়া ক্রমেই বেশি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৎস্য আহরণও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। প্রবালের অবৈধ আহরণ ক্রমেই বাড়ছে। পর্যটকরাও প্রবাল সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, দ্বীপটির আকার ক্রমেই ছোট হচ্ছে। এভাবে দ্বীপটি যদি হারিয়ে যায়, তাহলে দ্বীপটিকে কেন্দ্র করে এত যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে, সেগুলোর কী হবে? দ্বীপটির পরিবেশদূষণও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এখানে বিদ্যুতের জন্য ব্যবহৃত হয় জেনারেটর। ক্রমেই বাড়ছে জেনারেটরের ব্যবহার। বাড়ছে তেল ও ভারী ধাতুর বর্জ্য। প্লাস্টিক-পলিথিনের বর্জ্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। দ্বীপে চাষাবাদে ব্যবহৃত হচ্ছে সার ও কীটনাশক। সেগুলো প্রবালসহ দ্বীপের প্রাণবৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ রক্ষায় শুধু ঘোষণা নয়, কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।



সাতদিনের সেরা