kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করুন

হাইকোর্টের নির্দেশনা

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করুন

বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ নামে একটি আইন আছে। মোটর ভেহিকল অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩ রহিত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। জনদাবির মুখেই আইনটি পাস হয়েছিল।

আমরা একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখব ২০১৮ সালে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়েছিলেন রাজীব।

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালের জুলাই মাসে একই ধরনের ঘটনায় রাজধানীতে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর প্রাণ যায়। ২০১৯ সালে বসুন্ধরা গেটে বাসচাপায় প্রাণ যায় বিইউপির এক শিক্ষার্থীর। এক টাকা ফেরত চাওয়ায় চলন্ত বাস থেকে যাত্রীকে লাথি মেরে ফেলে হত্যা করে হেল্পার। গত নভেম্বরে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে চলন্ত বাস থেকে ১০ বছরের মেয়েশিশুকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মগবাজার মোড়ে গাজীপুরগামী একই পরিবহনের তিনটি বাস নিজেদের মধ্যে পাল্লা দেওয়ার সময় দুই বাসের মধ্যে পড়ে মাস্ক বিক্রেতা এক কিশোরের মৃত্যু হয়। শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় এক পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ টাকা ভাড়া কম দেওয়ায় শুরু বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। এক পর্যায়ে কন্ডাক্টর যাত্রীকে ঠেলে ফেলে দিলেন চলন্ত বাস থেকে। প্রাণ হারান তিনি।

রাজধানীর গণপরিবহন কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে বলে মনে হয় না। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪৭(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ‘নির্ধারিত এলাকা ব্যতীত মোটরযান পার্কিং করা যাইবে না এবং যাত্রী বা পণ্য ওঠা-নামার নির্ধারিত স্থান ও সময় ব্যতীত মোটরযান থামানো যাইবে না। (৩) কোনো যাত্রী বা সড়ক ব্যবহারকারী মোটরযান চালক বা শ্রমিককে উপ-ধারা(১) এর অধীন নির্ধারিত পার্কিং এলাকা ব্যতীত অন্য কোনো এলাকায় মোটরযান পার্কিং করিতে এবং যাত্রী ও পণ্য ওঠা-নামার নির্ধারিত স্থান ও সময় ব্যতীত মোটরযান থামাইতে অনুরোধ বা বাধ্য করিতে পারিবেন না। ’ কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখি। রাজধানীর সব রুটের পুরো রাস্তাটাই যেন বাসস্টপেজ। যেকোনো জায়গায় যাত্রী হাত তুললেই বাস দাঁড়িয়ে গিয়ে যাত্রী তোলে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ‘গণপরিবহনের আসন সংখ্যা ও ভাড়া নির্ধারণ’ সংক্রান্ত ৩৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো গণপরিবহন, সহজে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ব্যতীত, যাত্রী পরিবহন করিতে পারিবে না। ’ আর ৩৪(৪) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো গণপরিবহনের মালিক, চালক, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (২)-এর অধীন নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা আদায় করিতে পারিবে না। ’ বাস্তবতা হচ্ছে, কোথাও কোনো চার্ট মানা হয় না। বাসের ভাড়া সরকার নয়, বাস মালিকরা ঠিক করে দেন। সেই ভাড়া দিতে না চাইলে যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়, বাস থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা তো একাধিক ঘটেছে। এক টাকা কিংবা পাঁচ টাকার জন্য যাত্রীদের গায়ে হাত তোলা শুধু নয়, প্রাণ কেড়ে নিতেও বাস শ্রমিকরা দ্বিধা করে না।

আদালতের নির্দেশ মেনে এখন সব বাসস্টপেজে ভাড়ার তালিকা টাঙানো হোক।



সাতদিনের সেরা