kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে

বাস থেকে ফেলে হত্যা

২২ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনায় কত পরিবার যে পথে বসেছে তার কোনো হিসাব নেই। অনেকেই বলে থাকেন, ‘দুর্ঘটনা হঠাৎ করেই ঘটে।

বিজ্ঞাপন

’ কিন্তু সব দুর্ঘটনাকে কি নিছকই দুর্ঘটনা বলা চলে? ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে না চলা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ইত্যাদি কারণে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলো কি নিছকই দুর্ঘটনা?

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছিলেন, ‘দুর্ঘটনার দায় চালককেও নিতে হবে। যেকোনো দুর্ঘটনা নিছকই দুর্ঘটনা নয়। এসব ঘটনায় অনেক মানুষের দায় ও দায়িত্ব আছে। ’ আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলেও তা কি পরিবহনকর্মীদের মনে একটুও দাগ কাটতে পেরেছে? বিষয়টি আমলে নিলে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা কী করে ঘটে?

২০১৮ সালে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়েছিলেন রাজীব। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে একই ধরনের ঘটনায় রাজধানীতে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর প্রাণ যায়। ২০১৯ সালে বসুন্ধরা গেটে বাসচাপায় প্রাণ যায় বিইউপির এক শিক্ষার্থীর। এক টাকা ফেরত চাওয়ায় চলন্ত বাস থেকে যাত্রীকে লাথি মেরে ফেলে হত্যা করে হেল্পার। গত নভেম্বরে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে চলন্ত বাস থেকে ১০ বছরের মেয়েশিশুকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ টাকা ভাড়া কম দেওয়ায় শুরু বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। এক পর্যায়ে কন্ডাক্টর যাত্রীকে ঠেলে ফেলে দিলেন চলন্ত বাস থেকে। প্রাণ হারালেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মগবাজার মোড়ে গাজীপুরগামী একই পরিবহনের তিনটি বাস নিজেদের মধ্যে পাল্লা দেওয়ার সময় দুই বাসের মধ্যে পড়ে মাস্ক বিক্রেতা এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় এক পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।  

মগবাজার মোড়ে দুর্ঘটনার পর বাস দুটি আটক করলেও চালকসহ অন্য কর্মীরা পালিয়ে গেছেন। জয়কালী মন্দিরের ঘটনায় অভিযুক্ত বাসের চালক ও হেল্পারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। যাত্রাবাড়ীতে সিএনজি অটোরিকশা চাপা দেওয়া বাসটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন।

উচ্চতর আদালতের নির্দেশনা গণপরিবহন আইন—কোনো কিছুই পরিবহনকর্মীদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না। বদলাচ্ছে না তাঁদের আচরণ। ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ তো নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁঁড়িয়েছে। থেমে নেই বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনা। দুর্ঘটনা বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা তো নিতেই হবে। কিন্তু গণপরিবহনকর্মীদের আচরণে পরিবর্তন আসবে কিভাবে? এ ধরনের হত্যা কী করে বন্ধ হবে?

উচ্চতর আদালতের নির্দেশনাটিই প্রণিধানযোগ্য। ‘দায় নিতে হবে। দায়িত্বশীল হতে হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা