kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সৌরবাতিগুলো সচল রাখুন

রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি কাজে অপচয়ের ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত আছে। আছে লুটপাট বা পুরো অর্থ লোপাটের অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনাও। এবার সেসবের সঙ্গে আরো একটি অপদৃষ্টান্ত যোগ হয়েছে মাদারীপুরের রাজৈর পৌর শহরে। শহরের ৫১৭টি স্থানে সড়কের ওপর সৌরবাতি স্থাপন করা হয়েছিল। খুঁটিসহ এসব বাতি স্থাপনে খরচ হয়েছিল প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পের অর্থায়ন করা হয়েছিল সরকারের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্থাপনের কয়েক মাস পর থেকেই বাতিগুলো নষ্ট হতে থাকে। স্থাপনের পর থেকে তাঁরা কাউকে দেখেননি এসব সড়কবাতির যত্ন নিতে বা রক্ষণাবেক্ষণ করতে। তাঁদের অভিযোগ, সড়কবাতি স্থাপনের কাজটি মানসম্মত হয়নি, জিনিসপত্রও ব্যবহার করা হয়েছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। এখন বেশির ভাগ বাতিই নষ্ট। বাতি থাকার অনেক খুঁটিও ভেঙে পড়েছে। যে অল্প কয়েকটি বাতি এখনো টিম টিম করে জ্বলছে, সেগুলো আলো নয়, বরং আলো-আঁধারির জন্ম দিচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পের পুরো পাঁচ কোটি টাকাই জলে গেছে।

রাজৈর পৌরসভার বর্তমান মেয়র জানান, কাজটি হয়েছে আগের মেয়রের সময়। যে প্রতিষ্ঠান কাজটি করেছিল তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যেন তাদের টেকনিশিয়ান দিয়ে মেরামতের কাজটি করা যায়। আগের পৌর মেয়র বলেছেন, যে প্রতিষ্ঠান কাজটি করেছিল তাদের দুই বছর পর্যন্ত সার্ভিস দেওয়ার কথা ছিল। এখন তো ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। পৌরসভারও সে ধরনের লোকবল নেই, যারা এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। তার অর্থ—এগুলো থেকে সার্ভিস পাওয়ার প্রায় কোনো আশাই নেই। বর্তমান মেয়র বলেছেন, তাঁরা নতুনভাবে প্রকল্প তৈরি করে নতুনভাবে বাতি লাগানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন। আমাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার দৃষ্টান্ত বটে! চার কোটি ৯৯ লাখ টাকায় স্থাপিত ৫১৭টি সৌরবাতির এইটুকু সেবার অর্থনৈতিক উপযোগিতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন নয় কি? তা না করা হলে দেশব্যাপী এভাবে প্রকল্পের পর প্রকল্প নেওয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থের অপচয় বা অপব্যবহার নিয়ে আগেও অনেক অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সারা বিশ্ব আজ সোচ্চার। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জোরদার হচ্ছে। সেখানে জলবায়ুসংক্রান্ত তহবিলের অর্থের অপচয় হলে তা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের সম্মুখীন করবে। তা ছাড়া রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এমনটা কাম্য নয়। আমরা চাই, রাজৈর পৌরসভার সৌরবাতিগুলো দ্রুত সচল হোক। প্রয়োজনীয় লোকবল দিয়ে পৌরসভাকেই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে তোলা হোক।



সাতদিনের সেরা