kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

স্থলবন্দরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ান

ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্থলবন্দরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ান

বিশ্ব যখন করোনা মহামারির চতুর্থ ঢেউ মোকাবেলা করছে, তখনই এলো আরেক নতুন বিপদ। করোনাভাইরাসের নতুন এক ধরন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওমিক্রন’। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আগের সব ধরনের চেয়ে বেশি সংক্রমণক্ষম।

বিজ্ঞাপন

সারা বিশ্বই ভাইরাসের নতুন এই ধরনটি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একে উদ্বেগের কারণ বা ‘ভেরিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এরই মধ্যে ওমিক্রন ৪০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত পাঁচজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত কাউকে শনাক্ত করা না গেলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বাংলাদেশও ওমিক্রন ছড়ানোর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু এখনো দেশে যথেষ্ট সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে স্থলবন্দরগুলোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ খুবই দুর্বল। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বহু যাত্রী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাদের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনসহ অন্য যেসব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল বন্দরগুলোতে তা খুব কমই দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ভারত থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক আসছে। এসব ট্রাকের চালকরা মাস্ক না পরেই বন্দরে থাকা হোটেল, চায়ের স্টল বা দোকানপাটে যাওয়া-আসা করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে মেলামেশা করছেন। এতে দেশে ভাইরাসের নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

প্রায় দুই বছর ধরে বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। প্রতিনিয়ত ভাইরাসটি রূপ বদলাচ্ছে এবং অপেক্ষাকৃত ভয়ংকররূপে আত্মপ্রকাশ করছে। এরই মধ্যে ভাইরাসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। বহু মানুষ টিকার আওতায় এসেছে। কিন্তু সেই সব টিকা ওমিক্রনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এর ক্ষতিকর ও অন্যান্য দিক নিয়েও ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও প্রায় সব দেশই নতুন ধরন প্রতিরোধে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। বেশির ভাগ দেশ আফ্রিকার, যেসব দেশে ওমিক্রনের প্রথম বিস্তার হয়েছিল সেই দেশগুলোসহ পরবর্তীকালে আক্রান্ত অনেক দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কিংবা সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের কঠোর কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশেও স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপসহ এমন কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থলবন্দরগুলোতে এখনো এমন শিথিলতা কেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ খুবই কম। সেই সুবাদে প্রায় সব নিয়ম-কানুন উঠে গেছে। গণপরিবহন, হাট-বাজার, বিপণিবিতান, অফিস-আদালত, কলকারখানা—কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বালাই নেই। ওমিক্রনের কথা বাদ দিলেও এই প্রবণতা অত্যন্ত ভয়ংকর হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি ঢেউয়ের পরই করোনা সংক্রমণ শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছিল। আবার নতুন ঢেউ ভয়ংকররূপে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশে দ্বিতীয় ঢেউ বা ডেল্টা ভাইরাসের সংক্রমণ আগের চেয়েও ভয়ংকর হয়েছিল। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দুটিই বেশি ছিল। এখনো যদি আমরা যথেষ্ট সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না নিই, তাহলে তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরো ভয়ংকররূপে আক্রমণ করতে পারে। সেটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।



সাতদিনের সেরা