kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বন্দুকযুদ্ধ সমাধান নয়

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর সহযোগী হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। কুমিল্লা কোতোয়ালি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী ‘গত বুধবার দিবাগত রাতে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি থানার পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পিস্তল হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে সোহেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম বলে শনাক্ত করে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গোলাগুলিতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় এই হত্যা মামলার অন্য দুই আসামি।

গত ২২ নভেম্বর বিকেলে কুমিল্লা শহরের পাথুরিয়াপাড়ায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেলের সিমেন্টের দোকান থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজে হামলা চালায় একদল মুখোশধারী। সেখানে থাকা সোহেল এবং তাঁর সহযোগী ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি হরিপদ সাহাকে তারা গুলি করে হত্যা করে। পরদিন সোহেলের ছোট ভাই ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত কমিশনার মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যাকাণ্ডে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হওয়ার পরও কুমিল্লার মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক নেতা, মামলার বাদী, এমনকি নগরের সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটা অস্বাভাবিকও নয়। আসামিরা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলে অনেক কিছু আড়ালে থেকে যায়। ঘটনার নেপথ্যে কারা, কারা ইন্ধনদাতা—এসব জানা যায় না। মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলার তিন আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় নেপথ্যের তথ্য অজানা থেকে যাবে। এত বিপুল ও আধুনিক অস্ত্রের জোগানদাতা, অর্থদাতা কারা, কী তাদের উদ্দেশ্য এবং পেছনে কারা—এসব তথ্য জানা খুবই প্রয়োজন ছিল।

দেশে আইনের শাসন আছে। কমিশনার মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া গেলে অনেক রহস্য উন্মোচন হতো। অনেক অভিযুক্ত এখনো পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের হাতে তুলে দেওয়া গেলে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অনেক কিছু জানা যাবে বলে আমরা মনে করি।

 



সাতদিনের সেরা