kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে

অবৈধ ইটভাটার বায়ুদূষণ

২৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে

বাংলাদেশে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। ব্যাপক হারে বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের রোগ। মৃত্যু হচ্ছে বহু মানুষের। এসব কারণে সরকার ইটভাটার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ড্রাম চিমনির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু কে শোনে কার কথা। দেশের অনেক স্থানেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করে ইটভাটা স্থাপন করছেন। নিষিদ্ধ হলেও দেদার কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি করা হচ্ছে। এমনই একটি ইটভাটার খবর প্রকাশিত হয়েছে গতকালের কালের কণ্ঠে। বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়গ্রামে স্থাপিত একটি ইটভাটার লাইসেন্স, ছাড়পত্র কিছুই নেই। বসানো হয়েছে ড্রাম চিমনি। অথচ ইট বানানো চলছে। কাঠ এনে জড়ো করা হয়েছে ইট পোড়ানোর জন্য। জানা যায়, মাঠের মধ্যে যে ১১ একরের মতো দুইফসলি কৃষিজমিতে ভাটাটি নির্মাণ করা হচ্ছে তার একটি বড় অংশই বিরোধপূর্ণ। সেখানে ভাটা স্থাপনে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে, কিন্তু ভাটার মালিক এতটাই প্রভাবশালী যে তিনি কোনো কিছুরই পরোয়া করছেন না। তাহলে এ দেশে পরিবেশ রক্ষা পাবে কিভাবে?

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শিকার ১০০টি শহরের মধ্যে চারটি শহরই বাংলাদেশের। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সংখ্যাটিও দ্রুত বাড়বে। বলা বাহুল্য, দেশে বায়ুদূষণের প্রধান কারণ বিধি-নিষেধ না মানা বা অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা। সারা দেশেই এ রকম বহু ইটভাটা রয়েছে, যেগুলো প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে বলে অতীতে অনেক অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, আমতলীর ইটভাটার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা—সবাইকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সবাই স্বীকার করেছেন যে এ ধরনের ইটভাটা স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের প্রশ্ন, খোলা মাঠের মধ্যে কয়েক মাস ধরে ভাটা স্থাপনের কাজ চলছে। এখন ইট পোড়ানোর আয়োজন হচ্ছে। তাঁরা বিষয়টি জানলেন না কেন? বন্ধ করার উদ্যোগ নিলেন না কেন? তাঁদের জানানো কি পত্রিকার দায়িত্ব? অভিযোগ আছে, নিষিদ্ধ ইটভাটাগুলোর ব্যাপারে প্রশাসন সবই জানে, কিন্তু বিশেষ কারণে সেগুলো দেখেও না দেখার ভান করা হয়। আর তাতে প্রভাবশালীরা আরো স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ পান।

বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি হলে তা আমাদের ফুসফুসকে অকেজো করে দেয়। এ ছাড়া বায়ুতে থাকা ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য রোগেরও কারণ হয়। কয়েক বছর আগে ঢাকায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, এখানে ২৩.৪৭ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত। অন্যান্য শহর, এমনকি গ্রামেও চিত্রটা কাছাকাছি হবে বলেই ধারণা করা হয়। দেশের মানুষ কি এভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে, নাকি সরকার তথা প্রশাসন মানুষের জীবন রক্ষায় উদ্যোগী হবে?

 

 

 



সাতদিনের সেরা