kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অনিয়ম খতিয়ে দেখুন

বিদ্যালয় ভবন দেবে যাওয়া

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যে দেবে গেছে। শিক্ষকরা ঝুঁকি নিয়ে প্রাত্যহিক কাজ সারলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা যেকোনো সময় ভবনটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে কাজ শুরুর পর বিদ্যালয়টির নির্মাণ শেষ হয় ২০১৯ সালে। নতুন ভবন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার ছয় মাসের মাথায় মেঝে দেবে যেতে শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে শুরুতেই বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শুধু মেঝেতেই নয়, দেয়ালেও ফাটল ধরেছে। একইভাবে অফিস রুমের একটি কক্ষের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বিদ্যালয়ের পুরনো জরাজীর্ণ একটি ভবনে কোনো রকমে পাঠদান করানো হচ্ছে। ২০১৯ সালের শেষের দিকে এই ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও করোনার কারণে ২০২০ সাল থেকে বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এখানে কোনো ক্লাস হয়নি। এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বলছে, নিম্নমানের খোয়া ও বালু দিয়ে মেঝে ঢালাই করার সময় আপত্তি জানালেও কোনো কাজ হয়নি। কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্য, বিষয়টি প্রকৌশল অফিসকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সরকারি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নানা অভিযোগ অতীতেও বিভিন্ন সময়ে পাওয়া গেছে। এসব ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই এসব ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা জানালা-দরজা অল্পদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। নির্মাণকাজে যে টাকা বরাদ্দ করা হয় তার বেশির ভাগ চলে যায় ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পকেটে। সুফল ভোগ করতে পারে না শিক্ষার্থীরা।

সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছে। শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করছে। কিন্তু এসব বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হবে কেন? এর কারণ খুঁজে বের করা দরকার। নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যে কমলগঞ্জের বড়চেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের মেঝে কেন দেবে গেল তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা