kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রত্যাবাসনে জোর দিতে হবে

জটিল হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রত্যাবাসনে জোর দিতে হবে

যত দিন যাচ্ছে, রোহিঙ্গা সংকট তত বেশি জটিল হয়ে উঠছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রত্যাবাসন শুরুর দিন-তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এরপর প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া থমকে যায়। এর মধ্যে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়ে গেছে। তারা প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়। তাই শিগগির প্রত্যাবাসন শুরু করা যাবে—এমন কোনো ইঙ্গিতও মিলছে না। এদিকে কঠিন প্রহরা সত্ত্বেও আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে রাখা যাচ্ছে না। নানাভাবে দেশের ভেতর ছড়িয়ে পড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। ক্যাম্পে যারা আছে তাদেরও একটি বড় অংশ সংঘাত-সংঘর্ষ, খুনাখুনি, চুরি-ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসের সঙ্গেও অনেকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা ক্রমেই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তার কিছুটা প্রতিফলন ঘটেছে আসেম (এশিয়া-ইউরোপ মিটিং) শীর্ষ সম্মেলনে। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সম্মেলন শেষে শুক্রবার এক বিবৃতিতে আসেম নেতারা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং রাখাইনে তাদের আবারও জীবন শুরু করার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন আসেম নেতারা।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না। দেশের অভ্যন্তরেও তারা জনগণের ওপর চরম অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে গত অক্টোবর মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ানের সম্মেলনে জান্তা সরকারের প্রধানকে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। এবার আসেম সম্মেলনেও জান্তা সরকারকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। উভয় সংস্থার পক্ষ থেকেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জান্তা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, আসিয়ান ও আসেমের আহ্বান অনুযায়ী জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলতে সম্মত হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারকে নিয়মিত তাগাদা দিতে হবে। আসিয়ান, আসেম, এমনকি মিয়ানমারকেও বুঝতে হবে, অস্তিত্ব সংকটে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শুধু বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই এক ভয়ানক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অনেক বিশেষজ্ঞই রোহিঙ্গা সংকটকে আগুন নিয়ে খেলার শামিল বলে মনে করছেন। বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে আরো উদ্যোগী হতে হবে। চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, মিয়ানমার যেন সেই চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করে সে জন্য আবারও চীনের ভূমিকা রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে। এ জন্য চীনের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করতে হবে। আমরা চাই না রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হোক।



সাতদিনের সেরা