kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক

১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক

ফ্রান্স বাংলাদেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ ও উন্নয়ন অংশীদার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ফ্রান্সের সহযোগিতা ছিল ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কেরও ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফর নানা দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

আর তার প্রতিফলনও দেখা যায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে অংশীদারি আরো এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বাণিজ্য বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে একটি সম্মতিপত্রও স্বাক্ষরিত হয়। এখানে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকছে। এর ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশ ফ্রান্স বাংলাদেশকে সেই সহযোগিতা দিতে পারে। দুই নেতার মধ্যকার বৈঠকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে উঠে এসেছে। ফ্রান্স তেমন আগ্রহও ব্যক্ত করেছে। এ ছাড়া উভয় দেশই চায় ইন্দো-প্যাসিফিক তথা ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা থাকুক, নিরাপদ পরিবেশে সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশ হোক। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশ সহযোগিতার নতুন নতুন দিক উন্মোচনে একমত হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে রাজনীতি ও কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। জানা যায়, এই সফরকালে ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের মতে, বাংলাদেশে ফ্রান্সের বেশ ভালো বিনিয়োগ আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছর পর বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সফর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ কাসতেক্সের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। প্যারিসে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা প্যারিস পিস ফোরামে অংশ নেবেন। এ ছাড়া তিনি ইউনেসকো সদর দপ্তরে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ‘ইউনেসকো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ পুরস্কার বিতরণসহ আরো কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

ফ্রান্স শুধু বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারই নয়, এক পরীক্ষিত বন্ধুও। বাংলাদেশের উন্নয়নে আরো বড় ভূমিকা রাখার সক্ষমতা ও ইচ্ছা ফ্রান্সের আছে। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতার সেই সম্পর্ক আরো গতিশীল হবে এবং এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।



সাতদিনের সেরা