kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শাস্তি নিশ্চিত করুন

বাড়ছে খুনাখুনি

১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাস্তি নিশ্চিত করুন

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। অপহরণ, গুম, খুন, ডাকাতি, রাহাজানি এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। পত্রিকার পাতা খুললেই এমন অনেক নৃশংস খবর চোখে পড়ে। ‘ডাবল’ বা ‘ট্রিপল মার্ডার’-এর ঘটনাও এখন প্রায়ই ঘটছে।

বিজ্ঞাপন

দিনকয়েক আগে চট্টগ্রামে পর পর এ রকম দুটি ঘটনা ঘটেছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার একটি বাড়ি থেকে এক প্রবাসীর মা-স্ত্রীসহ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রবাসীর শিশুসন্তানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই দিনের পত্রিকায় প্রকাশিত অপর এক খবরে বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় মেঘনা নদী থেকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনজনের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে রাজনৈতিক কারণে খুনাখুনির ঘটনা। দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে অনেক সংঘর্ষ ও খুনাখুনির ঘটনা ঘটেছে। আছে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘাত। শুক্রবার ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ।

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম হচ্ছে নিরাপদে ও মানসম্মানের সঙ্গে বসবাস করা। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকদের জন্য সেই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে তেমন পরিবেশ আছে কি? বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটনের হার ক্রমেই বাড়ছে। আইন ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কারণেই দেশে খুন-ধর্ষণসহ ভয়ংকর অপরাধ বাড়ছে। অপরাধীরা ক্রমে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কিশোররাও এখন খুনখারাবিতে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখনই শক্ত হাতে লাগাম টানা না গেলে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মেঘনায় যে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে তার মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয়টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতদের মধ্যকার বিরোধেই তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। মেঘনায় ও হাওরাঞ্চলে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হয়, এলাকায় এমন অনেক ডাকাতদল সক্রিয় রয়েছে।

সংঘটিত অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে অপরাধীরা আরো অপরাধ সংঘটনে উৎসাহিত হয়। অপরাধ ক্রমে বাড়তে থাকে। তুচ্ছ ঘটনায় খুনাখুনি তারই প্রমাণ বহন করে। আর অপরাধ এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না। ক্রমাগত ডালপালা বিস্তার করতে থাকে। নৃশংস অপরাধের এমন দ্রুত বিস্তারে সমাজে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাবোধ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই ভয়ংকর প্রবণতা এখনই রোধ করতে হবে। তা না হলে সমাজ ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। আর যারা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচয় কাজে লাগিয়ে অপরাধ করে, তাদের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকেও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

 



সাতদিনের সেরা