kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক

এগিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচন

২৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক

জাতীয় সংসদের পরবর্তী নির্বাচন ক্রমেই নিকটবর্তী হচ্ছে। নির্বাচন সম্পর্কিত নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি নেতারা এর মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে। অন্যথায় তাঁরা সেই নির্বাচনে অংশ নেবেন না। বিএনপির এই ঘোষণার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন আরো কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা। এদিকে নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধান অনুযায়ী দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবিও উঠেছে। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে একটি রিটও করা হয়েছে। এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রশ্নই ওঠে না। এমন অবস্থায় নির্বাচন যত নিকটবর্তী হবে, তত বেশি সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতীতের অনেক নির্বাচনেই এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। তখন জাতিসংঘসহ অনেক দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রধান পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলাপ-আলোচনা করেছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত তা বিদেশিরা বলে দেবে না। বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালিত হবে দেশের সংবিধান, প্রচলিত বিধি-বিধান ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে। গত বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাব আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষ অতীতের সংঘাতময় পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। আবার কিছু দলের বিদেশিদের কাছে ধরনা দেওয়া এবং সংঘাত থামাতে বিদেশিদের ঝাঁপিয়ে পড়াকেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত মনে করেন না। সে ক্ষেত্রে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বক্তব্য যথার্থ। তিনি বলেছেন, সংবিধানের মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে এমনভাবে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করার মতো অনেক দক্ষতা ও প্রতিভা বাংলাদেশের আছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সবার অবাধ অংশগ্রহণ জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্য আগামী নির্বাচন আয়োজনে যথাসম্ভব সমর্থন দিয়ে যাবে। আমরা মনে করি, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার প্রাথমিক শর্তগুলো সরকারকেই পূরণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে উচ্চ আদালত কী পর্যবেক্ষণ দেন তা দেখে সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিএনপিসহ যেসব দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ক্ষমতাসীন বা বিরোধী দল সবাইকেই সংবিধান ও প্রচলিত বিধি-বিধানকে সম্মান জানাতে হবে। একই সঙ্গে অনড় অবস্থানে না থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে এগিয়ে আসতে হবে।

আমরা আশা করি, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন একটি মাইলফলক নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই নির্বাচনে সব দল ও মতের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে, এমনটাই আমরা প্রত্যাশা করি। অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে এবং নির্বাচনী বিধি-বিধান কঠোরভাবে পালন করবে। সেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আমরা অবশ্যই বিদেশিদের স্বাগত জানাব।



সাতদিনের সেরা