kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

বেশি দামে সার বিক্রি

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একসময়ের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নিজের দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের খাদ্য। দেশের কৃষি উৎপাদনে কৃষকের যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি সরকারও কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কৃষিতে ব্যবহৃত সার, বীজ, সেচের পানি সুলভ ও সহজলভ্য করতে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু চলতি আমন মৌসুমের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার হাটবাজারে সাত দিন ধরে খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারের ঘরে ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় বেচা হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, ডিএপিসহ বিভিন্ন প্রকার সারের দাম বেশি নেওয়া হলেও ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা কোনো রসিদ দিচ্ছেন না। এতে বেশি দামে সার বেচার বিষয়ে প্রমাণসহ কারো কাছে অভিযোগ দিতে পারছেন না কৃষকরা।

শুধু এই দুই জেলা নয়, আমন মৌসুমের শুরুতেই বগুড়ার শেরপুরে সার সংকটের গুজব রটিয়ে বাজারে নৈরাজ্য তৈরি করে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তখন অভিযোগ উঠেছিল সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় ওই চক্রটি।

কৃষিপণ্য উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। উদ্বৃত্ত খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পেছনে কৃষকের নিরলস পরিশ্রমের পাশাপাশি রয়েছে সরকারের চেষ্টা। নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকের হাতে ভর্তুকি মূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া ও সেচ সুবিধার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিশ্চিত করেছে সরকার। অন্যদিকে কৃষিবান্ধব সরকারের উদারতার সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট নিজেদের ভাগ্য বদলে নিতে চেয়েছে। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্যই সরকারের ভর্তুকি নীতি। অসাধু সিন্ডিকেট সরকারের এই উদ্দেশ্য ব্যাহত করছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



সাতদিনের সেরা