kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ান

উত্তরাঞ্চলে বন্যা

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ান

উত্তরের জনপদে এখন শুধুই হাহাকার। অসময়ের হঠাৎ বন্যায় ঘরবাড়ি, সহায়-সম্বল, জমির ফসল, পুকুরের মাছ—সব হারিয়ে তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী—এই চারটি জেলার কয়েক লাখ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। সরকারিভাবে কিছু ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই নগণ্য।

প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত ১২টা। ঘুমন্ত মানুষ হঠাৎ করেই দেখতে পায় তাদের ঘরের ভেতরে পানি চলে এসেছে। দ্রুত বাড়ছে পানি। একে অন্যের সহায়তায় তারা প্রাণ বাঁচাতে পারলেও ঘরবাড়িতে থাকা প্রায় কোনো সম্পদই বাঁচাতে পারেনি। উজান থেকে ধেয়ে আসা পানি অনেকের ঘরদোরও ভাসিয়ে নিয়েছে। উত্তরের এই জেলাগুলোতে আগে প্রতিবছর মঙ্গা বা দুর্ভিক্ষ ছিল প্রায় অনিবার্য। আগাম জাতের আমন ধান উদ্ভাবনের ফলে সেই মঙ্গা পরিস্থিতি বিদায় নিয়েছে। কিন্তু এবারের অকালবন্যায় সেই ধান প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই কয়েক দিনে বন্যার পানি কিছুটা নামলেও মানুষের দুশ্চিন্তা নামছে না। তাঁরা ভাবছেন, পরিবার-পরিজনের মুখে আহার জোটাবেন কিভাবে? চরাঞ্চলের অতি দরিদ্র মানুষের ছোট ছোট ঘর পানিতে ভেসে গেছে। আসন্ন শীতে তাঁরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন? অনেক প্রান্তিক কৃষক ধারদেনা করে শীতের সবজি চাষ করেছিলেন। জমিতে সবজির কোনো চিহ্নই নেই। আশা ছিল, সবজি বিক্রির আয় থেকে সংসার চালাবেন। এখন সংসার চালানো তো দূরের কথা, ধারদেনা শোধ করবেন কিভাবে তা ভেবে পাচ্ছেন না। পানির স্রোত এতটা তীব্র ছিল যে গ্রামাঞ্চলের ছোটখাটো অনেক রাস্তাই ভেসে গেছে। এমনকি বেশ কিছু আন্ত জেলা সড়কও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। যাঁদের বাড়িঘর বন্যায় রক্ষা পেয়েছিল, তাঁদের বাড়িঘর এখন যাচ্ছে নদীভাঙনে। যাচ্ছে ফসলি জমিও। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, শুধু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নয়, নদীর তীরে থাকা বাঁধেরও বহু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে অন্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মিলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হয় শুধু বন্যায়। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো না গেলে আমাদের সব উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য নদীখনন সবচেয়ে জরুরি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তিস্তা ক্রমেই উত্তরাঞ্চলের দুঃখ হয়ে উঠছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল সব কিছু ভাসিয়ে নিচ্ছে। তাই উত্তরের জনপদকে রক্ষায় খননের মাধ্যমে তিস্তার গভীরতা বাড়াতে হবে। উজান থেকে নেমে আসা পানির বড় অংশ যাতে নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আরো কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তা নির্ধারণ করতে হবে। তার আগে বন্যা উপদ্রুত এলাকার মানুষজনকে রক্ষায় ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালাতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা