kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাস

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে

রোহিঙ্গা শিবিরগুলো ক্রমে অপরাধের আখড়া হয়ে উঠছে। গুম, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ—কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাতে প্রায় প্রতিটি শিবির চলে যায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দখলে। নারীদের তুলে নিয়ে যায় স্বামী-স্বজনদের সামনেই। প্রাণের ভয়ে কেউ কিছু বলতেও পারে না। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু গ্রুপ রয়েছে। রয়েছে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান সিন্ডিকেট। ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করেছে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। সম্প্রতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করা রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে ক্যাম্পসংলগ্ন একটি মাদরাসায় হামলা চালিয়ে তিন শিক্ষক, এক শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পের দুজন বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তারও করেছে। এসব হামলার জন্য ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও তাদের অনুসারীদের দায়ী করেছেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থাই এমন হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যাম্পে শান্তি রক্ষার আহবান জানিয়েছে।

কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে ঘিরে চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। জানা যায়, গত চার বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় দলবদ্ধ হামলার বহু ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা, সংঘর্ষ ও অতর্কিত হামলায় ২৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব কাজে আরসা অনুসারীদের সহযোগিতা করছে অন্তত এক ডজন ডাকাতদল। চার বছরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ১২ ধরনের অপরাধে এক হাজার ২৯৮টি মামলা হয়েছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই খুনের মামলা হয়েছে ৭১টি। চার বছরে মাদকসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৭৬২টি, মানবপাচারের ২৮টি, অস্ত্র মামলা ৮৭টি, ধর্ষণ ৬৫টি, অপহরণ ৩৪টি এবং ডাকাতির মামলা রয়েছে ১০টি। ধারণা করা হয়, তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীরও যোগাযোগ রয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এরা জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপও (আইসিজি) এমন পূর্বাভাসই দিয়েছে। তার পরও এদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট জোরদার নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র কাজ করছে। সুযোগ পেলে তারা যে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা কোথায়? রোহিঙ্গারাও ক্যাম্প ছেড়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আরো অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেকোনো মূল্যে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান ঠেকাতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে।



সাতদিনের সেরা