kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের নানা সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। করোনা মহামারিকালেও সম্প্রীতির উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে এই দেশে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে ধরে গত ১৩ অক্টোবর ওই নগরীর অন্তত আটটি মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ হয়। তার জের ধরে সেদিনই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা হয়। এরপর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনীতেও সহিংসতা ছড়ায়। ১৭ অক্টোবর রাতে রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় ফেসবুকে এক তরুণের কথিত ধর্ম অবমাননার পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে জেলেপল্লীর ২৯টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়; ভাঙচুর করা হয় মন্দির।

সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর সারা দেশ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও নতুন করে তৎপর হয়েছে। কুমিল্লার ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণকে কক্সবাজার থেকে আটক করা হয়েছে। এর আগে পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশে মোট ৭২টি মামলা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায়  পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়েছিল।  কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলার পর সারা দেশে পুলিশ ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ ছিল বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও কয়েকটি জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল কেন? স্থানীয় প্রশাসন কী করেছে? পুলিশ বলছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট ‘মনিটর’ করছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতার চেতনাবিরুদ্ধ। অস্বীকার করার উপায় নেই যে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহারের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ। এ দেশে সব ধর্মের নাগরিকদের অন্যের ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। নাগরিকদের যেমন দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি দেশের প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকেও অপশক্তির বিরুদ্ধে তৎপর হতে হবে।



সাতদিনের সেরা