kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সত্যজিতের শিক্ষা ছড়িয়ে যাক

অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

১২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যশোরের মণিরামপুরের সত্যজিৎ বিশ্বাস। পেশায় তিনি শিক্ষক। এই মহান পেশায় নিজের নিষ্ঠার যে উদাহরণ তিনি সৃষ্টি করেছেন, এককথায় তা অনন্য। ৩৫ বছর আগে ১৯৮৬ সালে অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। এই ৩৫ বছরে এক দিনের জন্যও স্কুল থেকে ছুটি নেননি তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, কোনো দিন ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেছেন তিনি। নিজের বিয়ের দিনও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেছেন। বাবার শেষকৃত্য করেছেন ক্লাস শেষে। ছয় কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে গেছেন। ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাঁকে তাঁর ব্রত থেকে বিরত করতে পারেনি। গত শনিবার সেখানে তাঁর শেষ কর্মদিবস কাটিয়েছেন তিনি। স্কুল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে বিদায় জানালেও ছিল না কোনো আড়ম্বর। তাতে কোনো দুঃখ নেই সত্যজিৎ বিশ্বাসের।

অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষা এখন পণ্য হয়ে গেছে। সত্যজিৎ শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে গণ্য করেননি। ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন এই মহান পেশাকে। নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। আজকের দিনে এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। পেরেছেন। কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের শিক্ষক দিবসে তাঁকে  ক্রেস্ট উপহার দিয়েছিল জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি, নায়েম। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ডজনের বেশি পুরস্কার পেয়েছেন। এই প্রাপ্তি তাঁর মন ভরিয়ে দিয়েছে।  

আমাদের দেশে আজ নানা ক্ষেত্রে আদর্শ সৃষ্টির উদাহরণ নেই। শিক্ষাক্ষেত্রও তার ব্যতিক্রম নয়। অনেকে শিক্ষকতাকে নিছক চাকরি হিসেবে নিয়ে থাকেন। সেদিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা সত্যজিৎ বিশ্বাস। তিনি দেখিয়ে দিতে পেরেছেন যে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা থাকলে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন।

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মতো সুবিধা পান না। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরিজীবন শেষে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এককালীন টাকা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ছুটি পাওনা থাকলে ১৮ মাসের ছুটি, মাসিক পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সে সুবিধা নেই। কিন্তু এই ব্যক্তিগত সুবিধা বা সুযোগের জন্য নিজেকে ব্রত থেকে বিচ্যুত করেননি সত্যজিৎ বিশ্বাস। পরিবারও তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছে।

আদর্শ শিক্ষক হিসেবে সত্যজিৎ বিশ্বাস যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে যাক। এখন যাঁরা শিক্ষকতা পেশায় আছেন এবং আগামী দিনে শিক্ষকতা পেশায় যাঁরা আসবেন, তাঁদের জন্য সত্যজিৎ বিশ্বাসের দেখানো পথ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

 



সাতদিনের সেরা