kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পদ তো পৈতৃক সম্পত্তি নয়

ভাইকে স্ট্যাম্পে লিখে দেওয়া

১১ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমন ঘটনার কথা এর আগে কেউ কোনো দিন শুনেছে বলে মনে হয় না। আর তারই উদারহরণ সৃষ্টি হয়েছে রাজবাড়ীতে, যেখানে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একজন সংসদ সদস্যের ভাই তাঁরই পদটি লিখে নিয়েছেন। বিস্ময়কর এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে গতকাল কালের কণ্ঠে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী তাঁর দলীয় পদটি ছোট ভাই কাজী ইরাদত আলীকে লিখে দিয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুমোদন না করলেও ভোটের আগে ছোট ভাইয়ের আবদার ফেলতে না পারায় তিনি এ কাজটি করেছেন বলে জানিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, দলীয় পদটি কি সংসদ সদস্যের পৈতৃক সম্পত্তি যে তিনি একটি স্ট্যাম্পে সেটা তাঁর ভাইকে দান করে দিলেন? এটা কোন ধরনের রাজনীতিচর্চা? অভিযোগ উঠেছে পদ হস্তান্তর করে দেওয়ার পর রাজবাড়ীর রাজনীতি এখন ইরাদত আলীর নিয়ন্ত্রণে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন্দ্র কি বিষয়টি জানে। জেনে থাকলে কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাটাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যরা জনগণের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রতিনিধির সেই চিরচেনা সংজ্ঞাটি যেন পাল্টে গেছে। অবশ্য সবাই যে একই রকম করেন, তা নয়। তবে কিছু কিছু সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ড সরকারকে রীতিমতো বিব্রত করছে। একসময় রাজনীতি ছিল আদর্শকেন্দ্রিক। দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের ব্রত নিয়ে মানুষ রাজনীতি করতে আসতেন। সে কারণে রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের মানুষ সমীহ করত। আজকাল সব কিছু কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে মানুষ তাঁদের কর্মকাণ্ডে দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ, রাজনীতি ও সমাজসচেতনতা, ব্যক্তিত্ব, উত্তম আচরণ, সততা, নিষ্ঠা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, পরোপকারিতা ইত্যাদি গুণ দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবে কোনো কোনো সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ডে আমরা মানুষের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীতটাই দেখতে পাই। রাজনীতি এখন অনেকটাই যেন বাণিজ্যিক পণ্য হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করেও তৃণমূলে পদ কেনাবেচার অভিযোগ পাওয়া যায়। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা এই বলে মন্তব্য করেছিলেন যে বিনিয়োগ ছাড়াই আওয়ামী লীগের পদ বাণিজ্য সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা।

রাজনীতিকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে ব্যবহার করায় সরকার ও দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু দলের এক শ্রেণির নেতা ও কর্মীর সেদিকে দৃষ্টি নেই। এ ধরনের ঘটনায় দেশে রাজনীতিচর্চার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে। সে কারণে রাজনীতি থেকে আদর্শ দূরে সরে যাচ্ছে এবং ব্যক্তিস্বার্থ ও অপরাধপ্রবণতা ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন যখন ডালপালা গজায়, তৃণমূলে শিকড় ছড়ায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা