kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিন

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা

১০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিন

দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশের বাস গ্রামাঞ্চলে। সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চায়। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নির্মিত তিন হাজার ৩৮৪ কেন্দ্রের দুই হাজার ২০০টি চালু আছে। নতুন ১০০টির কাজ শেষ হয়েছে। নির্মিত হচ্ছে আরো ১৫৯টি। মাঠ পর্যায়ে আগে করা কেন্দ্রের নাম দেওয়া হয়েছিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। আর নতুন ১০ শয্যার কেন্দ্রের নাম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। নতুনভাবে করা কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে দুজন মেডিক্যাল অফিসার, চারজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক (এফডাব্লিউভি), একজন ফার্মাসিস্ট, একজন কম্পিউটার অপারেটরসহ ১৪ জনের জনবল কাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন রাজস্ব খাতে আর চারজন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করার কথা। পুরনো কেন্দ্রগুলোতে স্যাকমো ও এফডাব্লিউভির পদ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে একজন মেডিক্যাল অফিসার সপ্তাহে দুই দিন গিয়ে রোগী দেখার কথা। তিনতলা নতুন ভবনগুলোতে চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রহরী পর্যন্ত সবার জন্য আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। পুরনো ভবনগুলোতেও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক থাকার জন্য আলাদা কক্ষ আছে। কিন্তু তাঁদের বেশির ভাগই থাকছেন না। প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আবার যাঁরা আছেন তাঁদের অনেকেই যার যার কর্মস্থলে নেই। তদবির করে অন্য জায়গায় চলে যান। এমনকি মাঠ পর্যায়ের অনেক পদ খালি রেখে অনেকে ঢাকায় কাজ করছেন বলে খবরে প্রকাশ। অন্যদিকে বেশির ভাগ কেন্দ্রে প্রহরী নেই, আয়া নেই। এ ছাড়া কৌশল করে এই কেন্দ্রগুলো অচল করে দেওয়ার মতো অভিযোগ আছে।

আমরা এর মধ্যেই সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি অর্জন করেছি। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। কিছু কিছু উন্নয়নও হয়েছে। কিন্তু এখনো করার অনেক কিছুই বাকি রয়ে গেছে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের বাস গ্রামে। তারা এখনো জরুরি অনেক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ নেই বললেই চলে। অনেক কেন্দ্রেই আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই কিংবা বিকল হয়ে পড়ে আছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক চিকিৎসককেই কর্মস্থলে পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কর্তব্যে অবহেলা, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ক্লিনিকে যেতে বাধ্য করা, নানা অছিলায় রোগীদের পকেট কাটাসহ অনেক অভিযোগই রয়েছে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থা এখন অত্যন্ত শোচনীয়। ভবন আছে, বরাদ্দ আছে, কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামও আছে—কিন্তু চিকিৎসা নেই। কারণ গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের যাঁরা চিকিৎসা দেবেন খাতা-কলমে নাম পাওয়া গেলেও বাস্তবে তাঁদের দেখা মেলে না। এ অবস্থা আর কত দিন চলবে? স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের যে সদিচ্ছা রয়েছে তার প্রতিফলন দেখতে চাই আমরা। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য মিলবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।



সাতদিনের সেরা