kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আসক্তি আশঙ্কাজনক

মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিন

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে অনেক আগেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৪২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৪৮৮টি মামলা করা হয়েছে। থানা ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিদিন গড়ে গ্রেপ্তার করেছে অর্ধশতাধিক।  কিন্তু তার পরও থেমে নেই মাদকের কারবার। বাড়ছে আসক্তের সংখ্যা। অভিজাত এলাকায় বসবাসকারী উচ্চবিত্তদের পাশাপাশি ছিন্নমূল কিশোর থেকে বয়স্করা বিভিন্নভাবে জড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর নেশার ফাঁদে।  কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মাদকের কারণে মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে, এটা জেনেও এ নিয়ে তাদের চিন্তা নেই। কালের কণ্ঠকে অনেকেই বলেছে, মানসিক কষ্ট ভুলে থাকতে কিংবা ক্ষুধা নিবারণের জন্য তারা মাদক নেয়। একই সিরিঞ্জে মাদক ঢুকিয়ে তা শরীরে নিচ্ছে একাধিক ব্যক্তি, এমন দৃশ্যও ঢাকা শহরে দেখা যায়। শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও তরুণসমাজে মাদকাসক্তি ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মাদক সিন্ডিকেট। যেকোনো মাদক ব্যবসায়ীর প্রধান লক্ষ্য উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণরা। অন্যদিকে মাদকাসক্তরাও জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। 

মাদকের অপব্যবহার শুধু মাদকেই সীমিত থাকে না, আরো বহু অপরাধের কারণ হয়। অন্যদিকে মাদকসেবীরা যেমন পরিবারের জন্য, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে চলতে থাকলে সমাজ ক্রমেই পঙ্গু হয়ে যাবে, সব উন্নয়নপ্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়বে। বাংলাদেশ যে ক্রমেই ভয়ংকর পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করা হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়েছে বলে মনে হয় না।

আমরা চাই না, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মাদকের নেশায় ধ্বংস হয়ে যাক। মাদকের কারবার বন্ধ করা না গেলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সব ধরনের স্থিতিই বিঘ্নিত হবে। তাই মাদকের এই বিস্তার নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় চলে যাওয়ার আগেই সর্বাত্মকভাবে তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমেই কঠোরভাবে মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। দেশে মাদকের প্রায় সবটাই আসে বাইরে থেকে অবৈধপথে। আবার মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলো ঝুলে থাকে, অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তাদের জন্য দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।



সাতদিনের সেরা