kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অবাধে ঢুকছে মাদক

বন্দরগুলোতে স্ক্যানারের ব্যবহার বাড়ান

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




অবাধে ঢুকছে মাদক

২০১৭ সালে বিশ্বে মাদকের কারণে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার মানুষের। এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষ নানা ধরনের অসুস্থতা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে জীবন কাটাচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে তাদের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। এসব তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক গবেষণা প্রতিবেদনে। ২০১৯ সালের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকপাচারের প্রধান দুটি আন্তর্জাতিক রুটের একটিতে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশেও মাদকের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। এর কিছু প্রমাণ আমরা পাচ্ছি শুল্ক গোয়েন্দা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে। অভিজাত এলাকার বাড়ি, ক্লাব থেকে বস্তি পর্যন্ত সর্বত্রই জমজমাট মাদকের আড্ডা। প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে ইয়াবা, আইস, হেরোইন, এলএসডিসহ নানা ধরনের মাদক। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওষুধ আমদানির নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে অবাধে ঢুকছে মাদক। মাদকের এমন অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশের সামনে এক ভয়ংকর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে এভাবে মিথ্যা তথ্যে আনা বিভিন্ন পণ্যের ১৩৭টি চালান আটক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাস্তবে মিথ্যা তথ্যে আনা পণ্যের খুব কমসংখ্যক চালানই ধরা পড়ে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুনে চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্ক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হওয়ায় পাঁচটি কনটেইনারে তল্লাশি করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা দেখতে পান, একসময় চালু থাকলেও এখন বন্ধ এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ওষুধ তৈরির রাসায়নিকদ্রব্য আমদানির মিথ্যা তথ্য দিয়ে আনা হয়েছে বিভিন্ন রকম মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম। পরে জানা যায়, ওই একই প্রতিষ্ঠানের নামে ২০১৯ সাল থেকে মোট ২১টি চালান এসেছে; কিন্তু ধরা পড়েনি। ধরা পড়েছে ২২ নম্বর চালানটি। ব্যাংকের হিসাব পরীক্ষা করে দেখা যায়, এক ব্যক্তির ছবি ও পরিচয়পত্র দিয়ে আরেক ব্যক্তি সেখানে হিসাব পরিচালনা করে আসছেন। অবৈধ যোগসাজশ থাকারও অভিযোগ আছে। অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন নামকরা হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের নামেও এমন চালান আনা হয়। অথচ সেসব হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠান চালান সম্পর্কে কিছুই জানে না। অবৈধ আমদানিকারকরা নিজেরা সামনে না এসে এমন সব লোককে মাল খালাসে ব্যবহার করেন, যারা আমদানিকারক সম্পর্কে কোনো তথ্যই দিতে পারে না। ফলে মূল খেলোয়াড়রা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তরুণরা তো বটেই, দেশে কিশোররাও ক্রমে বেশি করে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ঢুকে যাচ্ছে নেশার জগতে। এই সর্বনাশা প্রবণতা রোধ করতে হলে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধ করতে হবে। বন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত আধুনিক স্ক্যানার বসাতে হবে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। পেছনে থাকা মূল কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের তরুণসমাজকে সর্বনাশা মাদকের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে।



সাতদিনের সেরা