kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

আরো পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন

উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাক

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরো পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন

কোনো দেশের উন্নয়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে সে দেশে বিদ্যুতের সহজলভ্যতার ওপর। বাংলাদেশ সেদিক থেকে যথেষ্ট এগিয়েছে। ২০০৯ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল পাঁচ হাজার মেগাওয়াটেরও কম। সে সময় সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। দেশ আজ সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট। শুধু উৎপাদনই নয়, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এ পর্যন্ত ৯৯.৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন দ্বীপভূমিতেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার আরো পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে ২০০৯ সালে কাজ শুরুর পর নতুন ১১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

দেশে কর্মক্ষম যুবক শ্রেণির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাপক শিল্পায়ন প্রয়োজন। আর শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক অবকাঠামোগত সুবিধা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের সহজলভ্যতা। একসময় এ দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের একটি প্রধান দাবি ছিল নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা। সেই দাবি পূরণ করা হয়েছে। শিল্প-কারখানায় বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের গতি বেড়েছে। তদুপরি এলএনজি আমদানির মাধ্যমে চাহিদা  মেটানো হচ্ছে। মহাসড়কগুলোকে চার লেন, আট লেন করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী নদীতে টানেলওয়ে নির্মাণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। নদী খননের মাধ্যমে নৌপথের উন্নয়ন করা হচ্ছে। নতুন সমুদ্রবন্দর নির্মাণসহ বিদ্যমান বন্দরগুলোর সুবিধা অনেক বাড়ানো হয়েছে। অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে শিল্পায়নও দ্রুততর হচ্ছে। শুধু দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগই নয়, বিদেশি বিনিয়োগেও গতি এসেছে। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে। ৭৭৯ মেগাওয়াটের নতুন যে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে, সেগুলো হলো ৪০০ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রামের ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ইউনিট-২, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট, বাগেরহাটের ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিলেটের ১৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রকে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে উত্তরণ।

দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং তা বাড়তেই থাকবে। মেট্রো রেল বিদ্যুতে চলবে এবং ক্রমে পুরো রেলব্যবস্থাকে বিদ্যুতায়িত করার লক্ষ্য রয়েছে। যানবাহনও ক্রমেই বিদ্যুত্চালিত হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে শিল্পায়নও দ্রুত এগোতে থাকবে। বাড়ছে ব্যক্তি পর্যায়ের বিদ্যুতের চাহিদাও। তাই এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়েই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনকে এগিয়ে নিতে হবে এবং সেভাবেই এগিয়ে চলেছে বিদ্যুৎ পরিকল্পনা। এরপর গ্রিডে আসবে রূপপুরের পরমাণুবিদ্যুৎ। তৈরি হচ্ছে মাতারবাড়ী ও পায়রায় বিদ্যুৎ হাবসহ আরো অনেক উদ্যোগ। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎসহ অন্যান্য উদ্যোগও এগিয়ে চলেছে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশে উন্নয়নের যে গতিধারা সূচিত হয়েছে তা সঠিকভাবেই এগিয়ে যাবে।

 



সাতদিনের সেরা