kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

ঢাকামুখী মানুষের দুর্ভোগ

লকডাউনের বিকল্প চিন্তা করতে হবে

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকামুখী মানুষের দুর্ভোগ

ঈদের ছুটির পর ১৪ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল, যা শেষ হওয়ার কথা ৫ আগস্ট। এই লকডাউনে গার্মেন্টসহ সব কলকারখানা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু গার্মেন্ট মালিকদের চাপের মুখে সরকার নতি স্বীকার করে। গতকাল রবিবার (১ আগস্ট) থেকে গার্মেন্টসহ রপ্তানিমুখী সব শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়া হয়। আর সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গার্মেন্ট মালিকরা কথা দিয়েছিলেন, লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ঢাকায় থাকা শ্রমিকদের নিয়েই কারখানা চালানো হবে। যেসব শ্রমিক ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে গিয়েছিলেন, তাঁরা লকডাউনের পর কাজে যোগদান করতে পারবেন। এ জন্য তাঁদের চাকরি যাবে না কিংবা বেতন কাটা হবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। অনেক গার্মেন্ট থেকে ফোন করে কিংবা এসএমএস পাঠিয়ে শ্রমিকদের চাপ দেওয়া হয়, তাঁরা যেন ১ তারিখেই কাজে যোগ দেন। অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে অনেক শ্রমিককে চাকরি হারাতে হয়েছে। তাই শ্রমিকরা ঝুঁকি নিতে চাননি, যে যেভাবে পেরেছেন ঢাকায় ফিরেছেন। ফেরিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাইলের পর মাইল তাঁদের হাঁটতে হয়েছে। ৫০ টাকা বাসভাড়ার রাস্তা ছোট ছোট যানবাহনে গাদাগাদি করে পাড়ি দেওয়ার পরও হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে। সব মিলিয়ে শনিবার রাস্তায়-ফেরিতে মানুষের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। অবশেষে রবিবার দুপুর পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানুষ যেভাবে ঢাকায় ফিরেছে, তাতে তাদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল অনেক বেশি। ফলে আবারও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে। তাহলে হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা যে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখা যাবে না, সেটি নীতিনির্ধারকদের আগেই বোঝা উচিত ছিল। আসলে শুধু রপ্তানিমুখী শিল্প নয়, অন্যান্য শিল্প-কারখানা কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও লকডাউনে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বহু কর্মী কাজ হারিয়েছেন। সরকার কিছু প্রণোদনা দিলেও তা ক্ষতিপূরণে যথেষ্ট নয়। কিন্তু তার পরও লকডাউন দিতে হয়েছে। কারণ করোনা মহামারি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেভাবে ব্যাপক প্রাণহানি হচ্ছে, তা ঠেকানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে লকডাউনের কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু এটি দীর্ঘ সময় ধরে চালানো যাবে না—সেই বাস্তবতাও আমাদের বুঝতে হবে। প্রতিরোধমূলক বিকল্প উদ্যোগগুলোতে জোর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের টিকা প্রদানের হার এখনো খুবই কম। তাঁদের মতে, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে বেশির ভাগ মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। টিকা দেওয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কারখানা, অফিস, যানবাহন—সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য নজরদারি অনেক বাড়াতে হবে। মানুষকে আরো বেশি সচেতন করতে হবে। আক্রান্তদের চিকিৎসার সুযোগ আরো বাড়াতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা