kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

শিল্প-কারখানা খুলছে আজ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করুন

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে করোনা পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা ওঠা-নামা করলেও এখনো তা দুই শর ওপরেই রয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় আক্রান্তের হারও ৩০ শতাংশের আশপাশেই থাকছে। এই অবস্থায় সরকার ১৪ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করেছিল, যা শেষ হওয়ার কথা আগামী ৫ আগস্ট। এর আগে ঈদুল আজহার সময় আট দিন কঠোর বিধি-নিষেধ কিছুটা শিথিল থাকলেও লকডাউন পরিস্থিতি চলে আসছে অনেক দিন ধরেই। এতে দেশের অর্থনীতি যেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তেমনি মানুষের জীবন-জীবিকাও চরম হুমকির মুখে এসে পড়েছে। সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যেই আজ থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটির দিনেই শুক্রবার এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারের এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আমরা বুঝতে পারছি, বৃহত্তর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই সরকার রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাও বিবেচনায় রাখতে হবে। হাসপাতালে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। একটি আইসিইউ শয্যার জন্য ২০ থেকে ২৫ জন রোগীকে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সময় আইসিইউ সেবা না পেয়ে অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। তার পরও যদি রোগী এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে সারা দেশে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেটিও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করবে। কাজেই কারখানাগুলোতে যাতে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলা হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। কারখানা খোলার সংবাদ পেয়েই গতকাল শনিবার যেভাবে মানুষকে শহরমুখী হতে দেখা গেছে তা-ও ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। ফেরিগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ছোট ছোট যানবাহনে গাদাগাদি করে মানুষ চলাচল করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে সংক্রমণ আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। যদিও তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলেছে, ঢাকার বাইরে থাকা কোনো শ্রমিকের এভাবে আসার প্রয়োজন নেই, ৫ তারিখের পর গণপরিবহন চালু হলে তারা যেন ঢাকা আসে। এ জন্য কারো চাকরি যাবে না, বেতন কাটা হবে না। কিন্তু তার পরও কর্মীদের দলে দলে ঢাকায় আসা শুরু হয়ে গেছে।

করোনার ছোবল থেকে মানুষকে রক্ষায় যেমন কঠোর বিধি-নিষেধের প্রয়োজন আছে, তেমনি ন্যূনতম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও প্রয়োজন আছে। মানুষের জীবন-জীবিকার দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। মানুষ যাতে ছোট ছোট যানবাহনে গাদাগাদি করে চলাচল না করে, সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। কারখানাগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।



সাতদিনের সেরা