kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা

উপাচার্যরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিন

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



উচ্চ মাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সাধারণত প্রতিবছর ডিসেম্বরের মধ্যেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বর্ষে ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়। জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু করোনার কারণে গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের ‘অটো পাস’ দেওয়া হয়েছে। এরপর এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারেনি। বর্তমানে করোনা সংক্রমণের যে পরিস্থিতি, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপ্রক্রিয়া আরো বেশি অনিশ্চিত। অন্যদিকে শিক্ষাবর্ষের হিসাবে জুলাই থেকে শিক্ষার্থীদের নতুন সেশন শুরু হওয়ার কথা। গত বছরের শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে এক বছর পার করে ফেলেছে। এ অবস্থায় আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারলেও ডিসেম্বর-জানুয়ারির আগে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তির আগেই একটা বড় সেশনজটে পড়ে গেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শেষ হচ্ছে ১৪ আগস্ট। এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হন। যাঁরা সুযোগ পান না তাঁদের মধ্যে যাঁরা আর্থিকভাবে সচ্ছল তাঁদের অনেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। যাঁরা বাকি থাকেন তাঁদের বেশির ভাগই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ভর্তি হন। এ অবস্থায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় নির্ধারণ না হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সুযোগ নিতে যাচ্ছে, এমন প্রসঙ্গ সামনে চলে এসেছে।

আমরা সব সময় দেখেছি উপাচার্যদের স্বীকৃত সংগঠন বৈঠক করে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করে থাকে। এবার কেন সেটি হচ্ছে না? উপাচার্যরা প্রয়োজনে একাধিকবার বৈঠক করে তো ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলতে পারতেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ভর্তি পরীক্ষা হয় না, ভর্তি করা হয় জিপিএর ভিত্তিতে। সে ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি অন্তত একটি বছর জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি করতে পারে না? উপাচার্যরা বৈঠক করে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হতাশা ও উদ্বেগ থেকে মুক্ত করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।