kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

করোনাকালে ‘মানবিক পুলিশ’

ইতিবাচক এই ধারা জোরদার হোক

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইনে দেওয়া ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আপনারা বিদেশি শোষকদের পুলিশ নন, জনগণের পুলিশ। আপনাদের কর্তব্য জনগণের সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা।’ ওই বক্তৃতায় তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘...আপনাদের মানুষ যেন ভয় না করে। আপনাদের যেন মানুষ ভালোবাসে। আপনারা জানেন, অনেক দেশে পুলিশকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। আপনারা শ্রদ্ধা অর্জন করতে শিখুন।’ বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভিন্ন সময়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশকে জনগণের সেবক হতে হবে। পুলিশের প্রত্যেক সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়াতে হবে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইচ্ছার প্রতিফলন যেন আমরা দেখতে পেলাম করোনাকালে। ‘জনগণের সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা’র ব্রত নিয়ে এগিয়ে এসেছে এ দেশের পুলিশ বাহিনী। অতিমারির এই সংকটকালে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে জনগণের পাশে আছেন পুলিশ সদস্যরা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কঠোর লাকডাউন বাস্তবায়ন করছেন। আবার নিয়মিত অভিযানে নিশ্চিত করছেন সুরক্ষা, জননিরাপত্তা। আবার মানবিক সাহায্যের অংশ হিসেবে খাবারসহ সহায়তা নিয়ে যাচ্ছেন হতদরিদ্র মানুষের কাছে। হাসপাতালে রোগীকে পৌঁছে দেওয়া, কোয়ারেন্টিন পালনে সহায়তা করা, চিকিৎসায় সহায়তা করা, করোনায় মারা গেলে জানাজা পড়ানো, কবর খোঁড়া, দাফন সম্পন্ন, আক্রান্তদের পরিবারকে সুরক্ষায় সহায়তা করা, ত্রাণ দেওয়ার কাজে সহায়তা করা, অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা, অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

সেবামূলক আচরণের মাধ্যমে বাহিনীটি ‘জনতার পুলিশ’ হয়ে ওঠার পথে চলে এসেছে। জাতির এই সংকটের সময় পুলিশ বাহিনী তাদের ‘মানবিক আচরণ’ প্রদর্শন করতে গিয়ে পুলিশের সবচেয়ে বেশি সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে করোনায় প্রাণ উৎসর্গ করেছেন ১০৩ জন পুলিশ সদস্য। আবার সুরক্ষাকাজে ব্যস্ত থাকলেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়নি পুলিশ। বিভিন্ন অপরাধীচক্রকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছে। অন্যদিকে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু হয়েছে। নারীদের জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নিশ্চিত করতে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে করা হয়েছে ‘প্যানডেমিক পুলিশিং’। প্রণয়ন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের এসওপি এবং ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল। সব মিলিয়ে ‘জনগণের পুলিশ’ জনগণের আস্থায় আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

আমরা জনগণের পুলিশ চাই। পুলিশ সত্যিকার অর্থে জনগণের বন্ধু হয়ে উঠবে, এই প্রত্যাশা রাখি।

 



সাতদিনের সেরা