kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

চামড়ায় আশার আলো

রপ্তানির পথ সুগম হয়েছে

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে চামড়ার প্রধান জোগান পাওয়া যায় কোরবানির ঈদের সময়। বলা হয়ে থাকে, সারা দেশে এ সময় প্রায় ৮০ লাখ পশু জবাই হয়। বাংলাদেশে সারা বছর যে সংখ্যক পশু জবাই হয় তার অর্ধেক হয় এই কোরবানির মৌসুমে। কোরবানি যাঁরা দেন, তাঁদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন পাইকারদের কাছে। পাইকাররা সেই চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজটি সেরে বিক্রি করেন ট্যানারিতে। ট্যানারি কেমন দামে চামড়া কিনবে, তা প্রতিবছর নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চলতি বছরও ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার; পশু ও আকারভেদে এবার চামড়ার দাম গতবারের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। ট্যানারি ব্যবসায়ীদের এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়া কিনতে হবে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়ার দাম হবে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা।

চামড়া এমন একটি পণ্য, যা সাধারণ মানুষ কিংবা ছোটখাটো ব্যবসায়ীর পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব নয়। আর সে কারণে অনেক সময় যে দাম পাওয়া যায়, তাতেই তাঁরা চামড়া বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। অতীতে অনেক সময় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের সুর তুলে দাম নিয়ন্ত্রণ করেছেন। খাতসংশ্লিষ্টরা এবার আশাবাদী। কারণ ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদারদের বকেয়া কমে এসেছে। পুরনো মজুদ কমে আসায় চাহিদাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মজুদ আছে পর্যাপ্ত লবণ। পাশাপাশি ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির পথ সুগম হওয়ায় এবার ঈদে চামড়া সংগ্রহে ‘দুঃসময়’ কাটবে বলে আশা করছেন এ খাতের অনেকেই। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির ঊর্ধ্বগতিতে কাঁচা চামড়ার চাহিদা তৈরির পাশাপাশি গত বছরের বিরাজমান কিছু সমস্যার সমাধান হওয়ায় এবার মাঠ পর্যায়ে কোরবানির পশুর চামড়ার দামে শৃঙ্খলা ফিরেছে। ফলে পরিস্থিতি পাল্টাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের প্রথম দিনে গত বছরের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ফিরতে দেখা যায়নি; দামও মিলছে কিছুটা ভালো।

দেশের চামড়া খাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রাথমিকভাবে প্রক্রিয়া করা পশম ছাড়ানো চামড়া বা ওয়েট ব্লু ও কাঁচা চামড়া। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবদান ৪ শতাংশ, যা দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করে পাঁচ বিলিয়ন ডলার এবং জিডিপির ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চামড়া খাতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ছয় লাখ এবং পরোক্ষভাবে আরো তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। সম্ভাবনাময় এই খাত আরো মনোযোগ আকর্ষণের দাবি রাখে।



সাতদিনের সেরা