kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

গতি বাড়ছে টিকায়

স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে করোনা সংক্রমণের গতি কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। গত রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত হয়েছে ১১ লাখ তিন হাজার ৯৮৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ হাজার ৮৯৪ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৯ লাখ ৩২ হাজার আটজন। রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ২৯.৯ শতাংশ। ওই ২৪ ঘণ্টায় জেলা হিসাবে সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ শনাক্ত ছিল গাজীপুরে। বিভাগ হিসাবে সর্বোচ্চ শনাক্ত ছিল বরিশালে ৩৯ শতাংশ, সিলেটে ৩৬ শতাংশ। ২৯ শতাংশ ছিল রংপুরে, ঢাকা বিভাগে ৩০ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৩০ শতাংশ, খুলনায় ২০ শতাংশ, ময়মনসিংহে ২৪ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ রাজশাহীতে। এদিকে ঢাকার ২২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটের কোনো বেড খালি পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি। এদিকে কোরবানির পশুর হাটও বসেছে সারা দেশে। এসব হাটে গত শনিবার থেকেই জনসমাগম হচ্ছে। অন্যদিকে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর ঈদ উপলক্ষে মানুষও ঘরমুখী। স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা করা হচ্ছে ঈদের ছুটিতে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়বে।

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সবাই যেন ভ্যাকসিন নিতে পারে তার জন্য যত ভ্যাকসিন দরকার, তা কেনা হবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। টিকা নিয়ে আরো সুসংবাদ আছে। কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুদানে দেওয়া মডার্নার আরো ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। শনি ও রবিবার ১০ লাখ করে ২০ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে চীনের সিনোফার্ম কম্পানি থেকে। সব মিলিয়ে দুই কোটি ১০ লাখ ডোজ এসেছে দেশে। এ মাসেই কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় জাপান থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২৯ লাখ ডোজ টিকা আসছে। রাশিয়া থেকে ক্রয়চুক্তির আওতায় আগামী মাস নাগাদ ৫০ লাখ ডোজ স্পুিনক ভি টিকা আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারের সঙ্গে সিনোফার্মের ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে প্রতি মাসে দেড় কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে। টিকা নিয়ে দেশের বাইরে কোনো সংকট সৃষ্টি না হলে আশা করা যায়, দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

কিন্তু আমাদের আরো একটি সংকট হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা। অনেকেই মাস্ক পরতে চায় না। নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। এটাই এখন করোনা প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র। করোনা পরিস্থিতিতে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।