kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

মজুদ সন্তোষজনক

এবার টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়ান

১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মহামারি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। হাসপাতালে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে দুই শতাধিক রোগী এবং আক্রান্ত হচ্ছে দৈনিক ১২ হাজারের বেশি। তার পরও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে চরম উদাসীন। ঈদে গাদাগাদি করে ঘরে ফেরা, হাট-বাজার-শপিং মলে ঠাসাঠাসি ভিড়, আড্ডা-অনুষ্ঠানাদি না ছাড়া, মাস্ক পরতে অনীহা—সব মিলিয়ে আমাদের চূড়ান্ত রকমের অসচেতনতাই প্রকাশ পাচ্ছে। রাতারাতি সচেতনতা বাড়ানোও সম্ভব নয়। এ অবস্থায় করোনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে দ্রুত বেশির ভাগ মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু বর্তমানে যে হারে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তাতে কবে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব তা বলা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।

কিছুদিন আগে দেশে টিকার সংকট হয়েছিল। এখন সেই সংকট কেটে গেছে। হাতে টিকার ভালো মজুদ রয়েছে। এক দিন আগেই সিনোফার্মের আরো ২০ লাখ টিকা এসেছে। আজ আসছে মডার্নার আরো ৩০ লাখ টিকা। দুই মাসের মধ্যে কমপক্ষে আরো দেড় কোটি ডোজ টিকা দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাকেন্দ্রগুলোতে কোনো বিরতি না দিয়ে এবং দুই-তিন শিফট করে হলেও দৈনিক কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই পরিমাণ টিকা দেওয়া হলেও মজুদে ঘাটতি পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তা সত্ত্বেও টিকা পাচ্ছে অনেক কম মানুষ। জানা যায়, এ মাসেই রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং আগামী মাসেই রাশিয়ার টিকার প্রথম চালান দেশে আসতে পারে। শিগগির ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকেও টিকা আসা শুরু হতে পারে। তার পরও টিকা প্রদানে এত রক্ষণশীলতা কেন? শনিবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছে এক কোটি পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। আর শনিবার পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৬৬ লাখের কিছু বেশি মানুষকে। অর্থাত্ নিবন্ধন করেও টিকা পায়নি ৩৯ লাখের বেশি মানুষ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা প্রদানের চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। কিন্তু টিকা প্রদানের গতি না বাড়ালে শুধু নিবন্ধনের গতি বাড়িয়ে লাভ হবে কি?

করোনা মহামারি আগে শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন তা গ্রামেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। গ্রামের মানুষের সচেতনতা আরো কম। তারা আক্রান্ত হলেও চিকিত্সকের কাছে যেতে দেরি করে। উপজেলা পর্যায়ে করোনা চিকিত্সার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। তাই দ্রুত তাদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।



সাতদিনের সেরা