kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

বিশ্বসম্প্রদায়কে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করুন

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বিশ্বসম্প্রদায়কে প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রায় চার বছর ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার চুক্তি করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে ফিরিয়ে নেয়নি। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেও বাস্তবে কিছুই করছে না মিয়ানমার। এমনকি জাতিসংঘকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও মানছে না দেশটি। এর মধ্যে সেখানে ঘটে গেছে সামরিক অভ্যুত্থান। জান্তাপ্রধান রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার সব সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দ্রুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য। বুধবার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত নবম মস্কো সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্যদানকালে এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আশ্রয় দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। আর এখন সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমার কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মিয়ানমারকে কার্যকর চাপ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে। কোনো কোনো আন্তর্জাতিক মহলের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, প্রকারান্তরে তারা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশেই রেখে দিতে চাইছে। এ অবস্থায় বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশকেও তার নিজের স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপে প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ কক্সবাজার অঞ্চলের পরিবেশ আজ ধ্বংসপ্রায়। শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশই নয়, অর্থনৈতিক-সামাজিক পরিবেশও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনেও নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। এ অবস্থায় সরকার ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হাজার রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে। স্বার্থান্বেষী কিছু গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে যেতেও বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে আশ্রয়শিবিরের ঘিঞ্জি পরিবেশে থাকতে থাকতে রোহিঙ্গারা ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। আশ্রয়শিবিরগুলোতে গুম, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ক্যাম্পগুলো চলে যায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দখলে। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। আবার অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। নানাভাবে সমাজে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। যেকোনো মূল্যে এসব রোধ করতে হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান রক্ষায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিতে হবে।

আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার। সমাধানও তাদেরই করতে হবে। এ জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে। তার আগে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই হবে।