kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

উচ্চশিক্ষায় করোনার থাবা

ক্ষতি পোষাতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিন

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




উচ্চশিক্ষায় করোনার থাবা

দেশে উচ্চশিক্ষার করুণ অবস্থা অনেক দিন ধরেই। ২০১৬ সালে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৬০০ থেকে ৮০০ নম্বরের মধ্যে। সেই শেষ। তার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র্যাংকিংয়ে এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নেই। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ৩৬টি, এমনকি পাকিস্তানেরও সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এক হাজারের তালিকায়। আমাদের এমন পীড়াদায়ক অধোগতির সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনা মহামারি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। কবে শুরু হবে তা-ও অনিশ্চিত। এমন অবস্থায় ক্ষতি পোষাতে বিভিন্ন ধরনের ছুটি বাতিল, শিক্ষাবর্ষের সময় কমানোসহ ছয়টি পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। মঙ্গলবার গাইডলাইনটি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষায় এরই মধ্যে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে, তা এই গাইডলাইনে পূরণ হবে কি?

ইউজিসির গাইডলাইনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সময় উল্লেখযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে হবে। সেমিস্টার, টার্ম বা বার্ষিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যাবহারিক বিষয়সহ সব বিষয়ের ক্লাস, ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, কুইজ, সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রচলিত সময়ের চেয়ে কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন ছুটি, যেমন—সামার, উইন্টার ও ফেস্টিভাল ভ্যাকেশন কমানো বা পরিহার করা যেতে পারে। প্রতিটি ক্লাসের (তত্ত্বীয় ও ব্যাবহারিক) সময় বর্তমানের মতোই বলবৎ থাকবে অর্থাৎ লেকচারের সময় কমানো যাবে না। প্রয়োজনে লেকচারের সংখ্যা কমালেও পুরো সিলেবাসের পাঠদান সম্পন্ন করতে হবে। ইউজিসি বলেছে, এই গাইডলাইন অনুসরণ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ রিকভারি গাইডলাইন তৈরি করতে পারবে। সেই প্ল্যান একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং তা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে।

অর্থনৈতিকভাবে দেশ অনেক এগিয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় কয়েক গুণ বেড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থায় রীতিমতো বিপ্লব সাধিত হয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনেক সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু আসল জায়গাটি অর্থাৎ শিক্ষায় যদি আমরা ক্রমাগতভাবে পিছিয়ে যাই, তাহলে এসব উন্নয়ন অর্থবহ হবে কি? বিশ্বের এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কেন বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও থাকবে না? দেশের মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

করোনা মহামারি সারা বিশ্বেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তার মধ্যেও অনেক দেশ শিক্ষার ক্ষতি রোধে নানা ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তাদের ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। আমরা তেমন পদক্ষেপ নিতে পারিনি বললেই চলে। অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষার আয়োজনও ছিল আংশিক। এই অবস্থা থেকে উচ্চশিক্ষাকে রক্ষা করতেই হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে। ইউজিসির গাইডলাইন মেনে এবং অন্যান্য পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষার ক্ষতি যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে।



সাতদিনের সেরা