kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

শান্তি সূচকে সাত ধাপ অগ্রগতি

এই ধারা অব্যাহত রাখুন

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০২১ সালের বৈশ্বিক শান্তি সূচকেও বাংলাদেশের সাত ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বের ১৬৩টি দেশের মধ্যে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ৯১তম। গত বছরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৭তম। ২০১৯ সালে এই সূচকে ১০১তম ছিল বাংলাদেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। অস্ট্রেলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস প্রকাশিত এ বছরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্জন ২.০৬৮ পয়েন্ট। আইইপির এই সূচক তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাব্যবস্থা, সামরিকায়ন এবং চলমান সংঘাতের মাত্রার হারের ভিত্তিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বের মাত্র যে তিনটি অঞ্চলে শান্তিতে অগ্রগতি হয়েছে সেগুলোর একটি দক্ষিণ এশিয়া। দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষভাবে অগ্রগতি হয়েছে সামরিকায়ন এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ইস্যুতে। এই অঞ্চলে সবচেয়ে শান্তির দেশ ভুটান, ২২তম। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেপাল আছে ৮৫তম স্থানে। শ্রীলঙ্কা ৯৫তম, ভারত ১৩৫তম ও আফগানিস্তান ১৬৩তম স্থানে রয়েছে। ভুটান বিশ্বে সবচেয়ে কম সামরিকায়ন হওয়া দেশগুলোর অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে উচ্চমাত্রার সহিংসতা থাকলেও পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তার বড় ধরনের ঝুঁকি কম। বাংলাদেশের ২৫ ও ভারতের ২৩ শতাংশ মানুষ সহিংস অপরাধের আশঙ্কা করে। এই হার এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম।

বৈশ্বিক নানা সূচকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের কিছু অর্জন উল্লেখযোগ্য। যেমন—পরিবর্তনশীল বিশ্বে সমতা ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ছয় বছর আগে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি স্থির করার পর যে তিনটি দেশ তাদের আগের অবস্থান থেকে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করতে পেরেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক ২০২১ সালের যে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে এবারের এসডিজি সূচকে বিশ্বের ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। চার বছর আগে ২০১৭ সালের সূচকে ১৫৭টি দেশের মধ্যে ১২০তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ এরই মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে একটি স্থিতিশীল অবস্থার দিকে যেতে শুরু করেছে। দ্রুতগতিতে চলছে প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ ১০ মেগাপ্রকল্প ও ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ। সব কিছু ঠিক থাকলে সরকারের এই মেয়াদেই দেশের মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার ভিত্তি রচনার ক্ষেত্রে এই ১০ মেগাপ্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই অর্জনগুলো ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ধরে রাখা গেলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না। আমাদের প্রত্যাশা, দেশের মানুষের সহযোগিতায় সরকার এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সব ব্যবস্থা নেবে।



সাতদিনের সেরা