kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

বাড়ছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি

ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য প্রস্তুতি নিন

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়ছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি

সম্প্রতি কয়েক দিনের ব্যবধানে সিলেটে মোট ১০ দফা ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে খুব কম মাত্রার এসব ভূকম্পনে বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বিশেষজ্ঞরা একে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ইঙ্গিত মনে করছেন। এ কারণে সিলেট এলাকার মানুষের মনে এখনো ভূমিকম্পের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ ১৮৯৭ সালে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তার প্রভাবে ঢাকায়ও বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ৮ মাত্রার কাছাকাছি কোনো ভূমিকম্প হলে ঢাকায় ৭০ হাজারের মতো বাড়িঘর ধসে পড়তে পারে। হতাহতের সংখ্যা কত দাঁড়াবে তা অনুমান করতেও কষ্ট হয়। বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে থাকা গ্যাস ও বিদ্যুতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হতে পারে। উদ্ধার তৎপরতায় কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। আহতদের জীবিত উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতিই শুধু আমাদের এমন ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো আগে থেকে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। একে আটকানোরও কোনো উপায় নেই। তাই ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পেতে হলে বাড়িঘর বা স্থাপনা ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বেশির ভাগ বাড়িঘরই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। ভবন নির্মাণে ইমারত নির্মাণ বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু শহরে নয়, গ্রামাঞ্চলেও এখন বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছে। সেগুলোর ক্ষেত্রেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আগে নির্মিত ভবনগুলোকেও ভূমিকম্প সহনীয় করার উদ্যোগ নিতে হবে। বুধবার কালের কণ্ঠ ও ব্র্যাক আয়োজিত ‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এমন বেশ কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন। বক্তারা আরো যেসব পরামর্শ দেন তার মধ্যে রয়েছে, বড় ধরনের বিপর্যয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর মতো সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জরুরি অথচ বিপজ্জনক সেবাগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা আরো নিরাপদ করতে হবে। ভূকম্পন হলেই লাফিয়ে পড়ে অনেকে হতাহত হয়। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে মানুষকে আরো সচেতন করতে হবে।

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রয়োজন হয় না, এমনিতেই অনেক ভবন হেলে বা ধসে পড়ে। তার কারণ ভবনগুলো তৈরিতে ন্যূনতম নিয়ম-কানুনও মানা হয় না। অনেক উন্নত দেশেও ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ সরাতে কয়েক মাস থেকে বছর লেগে যায়। তাই ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন তৈরিতেই আমাদের বেশি জোর দিতে হবে। দেশের কোথাও একটি ভবনও যাতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করে তৈরি না হতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই হবে না, সেগুলো দুর্ঘটনাস্থলে নেওয়ার মতো ব্যবস্থা রাখতে হবে। ঢাকার অনেক গলি-ঘুপচি রয়েছে যেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি তো দূরে থাক, রিকশাও ঢোকে না। সেসব গলিপথ প্রশস্ত করতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানুষকে সচেতন করতে হবে।



সাতদিনের সেরা