kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

এসডিজিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্যপূরণ নিশ্চিত করুন

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসডিজিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। নানা আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকে বাংলাদেশের এই উন্নয়নের প্রশংসা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার সর্বশেষ স্বীকৃতি এসেছে জাতিসংঘের কাছ থেকে। সোমবার জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে যে তিনটি দেশ সবচেয়ে ভালো করেছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালের এসডিজি ইনডেক্সে ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১০৯তম এবং মোট স্কোর দাঁড়িয়েছে ৬৩.৫। চার বছর আগে ২০১৭ সালের সূচকে ১২০তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ভালো অগ্রগতি অর্জন করা অন্য দুটি দেশ হলো আইভরি কোস্ট (১৩১তম) ও আফগানিস্তান (১৩৭তম)। দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটান ৭৫তম, মালদ্বীপ ৭৯তম, শ্রীলঙ্কা ৮৭তম, নেপাল ৯৬তম, ভারত ১২০তম ও পাকিস্তান ১২৯তম অবস্থানে রয়েছে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারি সারা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্বব্যাপী চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। বেকারত্বের হার বেড়েছে। দারিদ্র্য ব্যাপকতা পেয়েছে। এসব কারণে ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্ধারণের পর এবারই প্রথম এসডিজি সূচক স্কোরের বৈশ্বিক গড় কমেছে। তাই ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট-২০২১’ অনুযায়ী বাংলাদেশের অগ্রগতি ভালো হলেও নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যপূরণের ক্ষেত্রে এখনো সংশয় রয়ে গেছে। ২০১৫ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এসডিজিতে ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণের জন্য ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল। এসডিজির ১২ নম্বরে থাকা পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদনের ধরন নিশ্চিত করা এবং ১৩ নম্বরে থাকা জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি কর্মব্যবস্থা নেওয়ার দুটি লক্ষ্য বাংলাদেশ এরই মধ্যে পূরণ করেছে। এ দুটিতে বাংলাদেশের রং এখন সবুজ। এসডিজির ১ নম্বরে সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান এবং ৪ নম্বরে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ছয়টি লক্ষ্যে বাংলাদেশ রয়েছে কমলা তালিকায়, এসব ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি করতে হবে। বাকি আটটি লক্ষ্যে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলনামূলক অনেক কম, রয়েছে লাল তালিকায়। এগুলোর মধ্যে আছে স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, অবকাঠামো ও টেকসই শিল্পায়ন, নিরাপদ ও টেকসই নগরায়ণ, সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, ন্যয়বিচার এবং বৈশ্বিক অংশীদারি উজ্জীবিতকরণ। ২০৩০ সালের আর মাত্র ৯ বছর বাকি। এই সময়ের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এখন থেকেই এসব ক্ষেত্রে কাজের গতি অনেক বাড়াতে হবে।

সুখের বিষয় এই যে সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা থাকায় শিল্পায়নও বাড়ছে। বাকি যে লক্ষ্যগুলোতে আমরা পিছিয়ে আছি, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সেসব ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে হবে। আশা করি, নির্দিষ্ট সময়েই আমরা এসডিজির সব লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হব।



সাতদিনের সেরা