kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

দ্রুত ছড়াচ্ছে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট

লকডাউন কঠোরভাবে প্রতিপালন করুন

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্রুত ছড়াচ্ছে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট

লকডাউন বা কঠোর বিধি-নিষেধেও কাজ হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। সোমবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৫০ জন। গত ২৬ এপ্রিলের পর শনাক্তের সংখ্যা এটিই সর্বোচ্চ। শনাক্তের হার ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ। এদিকে ৩৫ দিন পর গত সোমবার সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। মারা গেছে ৫৪ জন। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে মারাত্মক ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভেরিয়েন্টও দ্রুত ছড়াচ্ছে। প্রথম দিকে এটি সীমান্ত এলাকায় থাকলেও এখন তা রাজধানীসহ সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে। লকডাউন বা বিধি-নিষেধ পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে অবহেলা। মানুষ এমনকি মাস্ক পরতেও অনীহা দেখাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব প্রায় কেউই মানছে না। ফলে এক জেলায় সংক্রমণ কিছুটা কমে তো আরেক জেলায় দ্রুত তা বেড়ে যায়। প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও দিনাজপুর সদরে তা ব্যাপক হারে বেড়েছে। সোমবার সেখানে শনাক্তের হার ছিল ৭০ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয়ভাবে করোনা মোকাবেলায় আরো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকায় চলাচলসহ অন্যান্য কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, যেভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে লকডাউন ও বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে প্রতিপালনের কোনো বিকল্প নেই। বাস্তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা লকডাউনের আওতায় আসছে। কিন্তু অনেক জায়গায়ই তা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ। হাট-বাজার, মার্কেট, যানবাহন—সব কিছু আগের মতোই চলছে। ফলে করোনা সংক্রমণ রোধে তা খুব একটা কাজে আসছে না। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী লকডাউনের বিধি-নিষেধগুলো কঠোরভাবে প্রতিপালনের যে নির্দেশ দিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনকে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। মানুষকে স্বাস্থবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। হাট-বাজার, মার্কেটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। যেসব মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে না, প্রয়োজনে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। এদিকে বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথার প্রকোপ কিছুটা ব্যাপক হয়েছে। করোনার উপসর্গ আর মৌসুমি এসব রোগের উপসর্গ একই রকম হওয়ায় অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উপসর্গ দেখা দিলেই কভিড টেস্ট করিয়ে নেওয়া ভালো। তা না হলে করোনা হয়ে থাকলে তা গুরুতর রূপ নেবে, তখন চিকিৎসা করালেও আশঙ্কা থেকে যাবে।

মনে রাখতে হবে, করোনা মহামারিতে সারা দুনিয়া বিপর্যস্ত। এখানে সামান্য অবহেলাও অনেক বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী উপদ্রুত এলাকাগুলোতে লকডাউন কঠোরভাবে পালন করা হবে।