kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

রুটি রুজিতে করোনার থাবা

মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রুটি রুজিতে করোনার থাবা

বাংলাদেশে বেকারত্বের হার আগে থেকেই অনেক বেশি ছিল। বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে গিয়ে অতীতে অনেক তরুণ নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের মধ্যে বহু তরুণের সলিল সমাধি হয়েছে। মরুভূমিতে বহু তরুণকে বেঘোরে প্রাণ দিতে হয়েছে। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে অনেকের স্থান হয়েছে গণকবরে। গত এক দশকে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে সেই পরিস্থিতি আবারও খারাপ হয়ে পড়েছে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা যায়, আত্মনির্ভরশীল কিংবা নিজে ব্যবসা পরিচালনা করে—এমন প্রায় ৭৯.৭ শতাংশ তরুণের মাসিক আয় কমে গেছে। আর চাকরি করে এমন ৫৭.৪ শতাংশ তরুণের বেতন বা আয় কমে গেছে। আবার অনেকে চাকরিও হারিয়েছে। ফলে আবারও অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার লিবিয়ার কোস্ট গার্ড ভূমধ্যসাগর থেকে ৪৩৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে, যার মধ্যে ১৬৪ জনই বাংলাদেশি। গত শনিবার অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সার্বিয়া সীমান্তে একটি ভ্যানগাড়ি থেকে ২০ বাংলাদেশি আটক করা হয়েছে। ভূমধ্যসাগরে ডুবে অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে। শুধু তরুণদেরই নয়, আয় কমছে অন্যদেরও। এ অবস্থায় আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বাড়ছে ক্রমাগতভাবে। একদিকে আয় কমে যাওয়া, অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া—দুয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে পারছেন না মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ। তাদের এখন খুবই করুণ অবস্থা।

দেশে অতি ধনী, ধনী ও উচ্চ মধ্যবিত্তের কাতারে আছে ২৩ শতাংশ মানুষ। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এদের ওপরে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। কিন্তু বাকি ৭৭ শতাংশ মানুষ আজ চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ১৫ টাকা। চাল, চিনি, পেঁয়াজসহ প্রায় প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। অথচ বেশির ভাগ মানুষের আয় কমেছে। তার ওপর ওয়াসা পানির দাম বাড়াচ্ছে। অন্যান্য সেবা সংস্থাও হয়তো ওয়াসাকে অনুসরণ করবে? তাহলে এই ৭৭ শতাংশ মানুষের সংসার চলবে কিভাবে? তারা কি খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেবে? শুধু খাদ্য কেন, পোশাকসহ বিভিন্ন কেনাকাটা, চিকিৎসা, সন্তানের লেখাপড়া কোন খরচটা বাদ দেওয়া যাবে? এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাময়িক সংকট মোকাবেলায় সরকারকে আরো বেশি কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে তরুণদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রণোদনা দিতে হবে। যাদের বেতন কমে গেছে তাদেরও বিশেষ সহায়তার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। যেসব তরুণ কাজ হারিয়ে, ব্যবসা হারিয়ে কিংবা অন্যান্য উপায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সহায়তার লক্ষ্যে সঠিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে এবং নিয়মিত সেই তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করতে হবে।