kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

শিশুশ্রম নিরসনে ধীরগতি

ঘোষিত লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়ন করুন

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুশ্রম নিরসনে ধীরগতি

অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এগোচ্ছে সামাজিক-অর্থনৈতিক অনেক সূচকে। সারা বিশ্ব বাংলাদেশের এই অগ্রগতির প্রশংসাও করছে। কিন্তু শিশুশ্রম নিরসনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি খুবই কম। এই ধীরগতির সমালোচনাও রয়েছে বিশ্বব্যাপী। অথচ দ্রুততম সময়ে শিশুশ্রম নিরসন করা না গেলে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্ববাজারে পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হতে পারে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সে জন্য শিশুশ্রম নির্মূল করে বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে বলেছেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে সব ধরনের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করতে হবে। এসডিজি সামনে রেখে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ’ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, সিভিল সোসাইটি ও গণমাধ্যম, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশে এবার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়, ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, শিশুশ্রমের অবসান’। এ ছাড়া ২০১৯ সালেই জাতিসংঘ ২০২১ সালকে ‘আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম নিরসন বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। তাই এ বছর এ দিবসটির আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। বাংলাদেশে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইউনিসেফসহ বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে দিবসটি উদযাপন করেছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত করার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আটটি খাতে শিশুশ্রম নিরসন করা গেছে। আর ছয়টি খাতকে সম্পূর্ণরূপে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন। আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন ও সুরক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জাতীয় শিশু নীতি-২০১১, শিশু আইন-২০১৩, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭ প্রণয়ন করেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিকাশে সরকার নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

‘আনন্দময় শৈশব চাই শিশুদের জন্য’—সর্বজনীন এই দাবি পূরণে প্রধান প্রতিবন্ধক শিশুশ্রম। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য আনন্দময় শৈশব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব কিছুই করবে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমবিষয়ক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। ‘জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০’ প্রণীত হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই সনদ, কনভেনশন ও নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই।