kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

ডিজিটাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বাজার

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেশের বিজ্ঞাপনের বাজার খুব বেশি বড় নয়। ছোট এই বিজ্ঞাপনবাজারের ওপর নির্ভরশীল দেশের গণমাধ্যম। বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনের বাজার টাকার অঙ্কে কতটা বড় সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই; এমনকি সরকারের কাছে এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যানও নেই। বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখনো টেলিভিশন। ১০ বছর ধরে বিজ্ঞাপনের বাজারে টেলিভিশনের আধিপত্য বজায় রয়েছে। কিন্তু সেই বাজারও সংকুচিত হয়েছে। মুদ্রণ ও বৈদ্যুতিন মিডিয়ায় যখন বিজ্ঞাপনের ঘাটতি, তখন দেখা যাচ্ছে অনলাইন মিডিয়া, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপচে পড়ছে বিজ্ঞাপন; এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে টার্গেট করে তৈরি করা হচ্ছে বিজ্ঞাপনচিত্র। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের নতুন বাজার দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। অনেক বিজ্ঞাপন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে এবং পরে টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের ফিডব্যাক দেখে ক্লায়েন্ট সিদ্ধান্ত নেয় সে বিজ্ঞাপন কতবার কোন মিডিয়ায় প্রচারিত হবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন কম্পানি এরই মধ্যে বিজ্ঞাপনের জন্য ডিজিটাল বিভাগ খুলেছে। ডিজিটাল মাধ্যম যে বিজ্ঞাপনের বাজারে টেলিভিশনের জন্য ধীরে ধীরে শক্ত প্রতিযোগী হয়ে উঠছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণটিও খুব স্পষ্ট। বিভিন্ন কম্পানি ও ব্র্যান্ড অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের প্রচার ও প্রসারের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমকেই বেছে নিচ্ছে।

এর একটি নেতিবাচক দিকও আছে। অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে এ ধরনের বিজ্ঞাপন। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটভিত্তিক বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিজ্ঞাপন প্রচারের আড়ালে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা। সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা, সরকার কোনো রাজস্ব না পেলেও গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ যোগাযোগের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে বছরে হাজার কোটির বেশি অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে; যার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইনের আওতায় আনা গেলে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপপ্রচারও বন্ধ করা যাবে।