kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অভাব

শিল্পায়নে ব্যাংক খাতের ভূমিকা বাড়াতে হবে

৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অভাব

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। লক্ষ্য, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে রূপান্তরিত হওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো; বেশি সংখ্যায় শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা। আর সে জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিনিয়োগ সহায়ক ব্যাংকিং খাত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের ব্যাংকিং খাত এখনো সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। ফলে সরকার বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণের সুদের হার কমালেও এর সুফল পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। অথচ এসব ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে ডিপোজিটসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে। তার পরও দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে এই ব্যাংকগুলোর এত অনীহা কেন?

দীর্ঘমেয়াদি ঋণ না পেলে তা শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে আগ্রহী নয় বললেই চলে। ফলে উদ্যোক্তাদের নির্ভর করতে হয় চারটি সরকারি ব্যাংকের ওপর। কিন্তু চারটি ব্যাংকের পক্ষে সারা দেশে বিনিয়োগের যে বিপুল চাহিদা, তা মেটানো সম্ভব নয়। গত মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে মোট ব্যাংকঋণের পরিমাণ ১১ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে বেসরকারি শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ তিন লাখ কোটি টাকার মতো। এই তিন লাখ কোটি টাকার বেশির ভাগই এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে। দীর্ঘমেয়াদি শিল্পঋণে ৬৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণ খুবই কম। বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সব ব্যাংকই সহজ ব্যাবসায়িক ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী। এর মধ্যে আছে ক্ষুদ্রঋণ, এসএমই ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ, কনজ্যুমার ঋণ। আর আছে বিভিন্ন ধরনের কার্ডভিত্তিক ঋণ বাণিজ্য। অথচ এসব ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশে শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা। সেই লক্ষ্যে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ এখন বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হচ্ছে, যা আগে ছিল শুধুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। সরকারি আমানতের সেই টাকাও এখন বেসরকারি ব্যাংকগুলো অধিক মুনাফায় স্বল্পমেয়াদি ঋণে লগ্নি করছে; এমনকি বেসরকারি অনেক ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মজুদদারিতেও অর্থ লগ্নির অভিযোগ আছে।

দেশে বেকারের সংখ্যা আকাশছোঁয়া। তার ওপর করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের মন্দাবস্থা বিরাজ করায় বিদেশে কর্মরতদেরও অনেকে ফিরে আসছেন। সরকার এই শ্রমিকদের পুনর্বাসনসহ নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে শিল্প স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতিনিয়ত আহ্বান জানিয়ে আসছে। সরকারি ও বেসরকারি ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করতে গেলে উদ্যোক্তাদের ইকুইটির পাশাপাশি ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য আলাদা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক গড়ে তুলতে হবে। আমরা চাই, দেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠুক।