kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

সারা দেশে হবে রেল যোগাযোগ

দ্রুত এই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন চাই

২৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারা দেশে হবে রেল যোগাযোগ

সড়কপথের তুলনায় রেলপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তুলনামূলকভাবে পরিবেশদূষণের পরিমাণও অনেক কম। এ কারণে আধুনিক বিশ্বে রেলওয়ে হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় গণপরিবহন। অথচ বাংলাদেশে ঘটেছে তার উল্টোটা। সত্তরের দশকের শেষ দিক থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তারই ধারাবাহিকতায় একের পর এক বন্ধ হয়ে যায় রেলপথ। অনেক জায়গায় রেললাইন তুলে ফেলা হয়। কারখানাগুলোকে প্রায় গলা টিপে হত্যা করা হয়। ইঞ্জিন-কোচের অভাবে ট্রেনের সব শিডিউল ভেঙে পড়ে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মৃতপ্রায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে আবার প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলপথগুলো সংস্কার করে আবার চালু করা হচ্ছে। নতুন নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কোচ আমদানির মাধ্যমে রেলওয়ের শিডিউল বিপর্যয় রোধ করা হয়েছে। সেসব প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, দ্রুত সমগ্র দেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বৃহস্পতিবার মধুখালী-কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে ঢাকা পর্যন্ত ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।

ব্রিটিশ আমলে এ দেশে যতটুকু রেললাইন ছিল, পাকিস্তান আমলে তা বাড়েনি বললেই চলে। সত্তরের দশকের শেষ দিকে এসে সেই রেলপথটুকুও কমতে শুরু করে। কারণ বিদেশি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শে তৎকালীন সরকারগুলো পরিকল্পিতভাবে রেল খাতকে ধ্বংস করে। শুধু রেলপথ বন্ধ করা নয়, লোকসানি দেখিয়ে লোকবল কমিয়ে ফেলা হয়েছে। অনেক স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান আমলেও যে সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপে দুই শতাধিক ওয়াগন তৈরি হতো, ১৯৯৩ সালে সেই ওয়াগন তৈরির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি স্লিপার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই অবস্থা থেকে রেলওয়েকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, মানুষের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য যেসব জায়গায় এখনো রেললাইন নেই, সেসব স্থানে নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সমগ্র বাংলাদেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যেসব স্থানের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো পুনঃস্থাপন করে শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন করতে চায় সরকার। ম্যাঙ্গো ট্রেনের উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমের মৌসুমে উত্তরবঙ্গের চাষিদের উৎপাদিত আম সাশ্রয়ী ভাড়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহনের জন্য ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সারা দুনিয়ায় সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন হিসেবে যে রেলপথ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে, বাংলাদেশে তা না হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ের পুনরুজ্জীবন ও সারা দেশকে রেল নেটওয়ার্কে নিয়ে আসার যে প্রক্রিয়া বর্তমান সরকার শুরু করেছে, আমরা তার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।



সাতদিনের সেরা