kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

নিম্নমানের বিটুমিন

অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিটুমিন সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ দ্রব্যটিকে অ্যাসফল্টও (সাধারণত প্রাকৃতিক বা প্রকৃতিজাত বিটুমিন) বলা হয়। দেশে রাস্তাঘাট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিটুমিনের বেশির ভাগই আমদানি করা হয়। সমস্যা হচ্ছে, এর আমদানিতে মান নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে মান যাচাই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাদের দ্বারা মান যাচাই করা ছাড়াই আমদানি করা হচ্ছে প্রচুর নিম্নমানের বিটুমিন।

অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট নিম্নমানের বিটুমিন আমদানি করে তার সঙ্গে ভেজাল মিশিয়ে ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছে। মূলত সরকারই এই বিটুমিনের মূল ভোক্তা। এই বিটুমিন দিয়ে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের পরপরই অকার্যকর হয়ে পড়ছে। উন্নয়নকাজে সরকারের শত শত কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। আর সড়কে-মহাসড়কে চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি ও তদারকি না থাকায় নিম্নমানের বিটুমিন আমদানি হচ্ছে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে। সরকার নির্ধারিত কোনো মান-পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় না এই আমদানিকারকদের। তদারকি না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেদার আমদানি করা হচ্ছে নিম্নমানের বিটুমিন। আর সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে বিটুমিন গলানো, পাথরের সঙ্গে বিটুমিনের মিশ্রণে যে নিয়ম মানা দরকার তা-ও ঠিকভাবে মানা হয় না। ফলে দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সড়ক নির্মাণের পর ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। আর নিম্নমানের এই বিটুমিন ব্যবহারের কারণে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। উন্নয়নকাজ টেকসই হচ্ছে না। এ কারণে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দেশে সড়ক যোগাযোগ ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। কিন্তু নিম্নমানের উপকরণের কারণে এসব কাজ খুব একটা মানসম্মত হয় না। অসাধু ঠিকাদার ও অসৎ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে না পাড়লে উন্নয়ন বাবদ সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় রোধ করা যাবে না। বন্দরে পণ্য খালাসের আগেই বিএসটিআই, বুয়েট বা ইআরএলের মান সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করা উচিত। সড়কে মানসম্মত বিটুমিন ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণকাজে তদারকি জোরদার করতে হবে। সড়ক কার্পেটিং করার সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নজরদারির বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত; তাদের তৎপর হতে হবে। নিম্নমানের বিটুমিন আমদানির সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে যারা এসব ব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।