kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন

জাতিসংঘকে উপযুক্ত ভূমিকা নিতে হবে

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ট্যাংক ও বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ৪১ শিশুসহ দেড় শতাধিক নিরীহ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে এক হাজারের বেশি। বহু মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের পাশাপাশি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আল-জালা টাওয়ার, যেখানে এপি, আলজাজিরাসহ অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কার্যালয় ছিল। সারা পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষ ইসরায়েলের এমন ন্যক্কারজনক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশেও ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। প্যারিসসহ অনেক শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ জরুরি আলোচনায় বসেছে। অথচ সব কিছুকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলা চলবেই।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি বর্বরতার শিকার হয়ে আসছে। আর পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের প্রবক্তারা নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ইসরায়েলকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও প্রকারান্তরে ইসরায়েলকেই সমর্থন করেছেন। হামাসের সামান্য কিছু রকেট হামলার প্রসঙ্গ টেনে বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েলেরও আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তাঁর এ বক্তব্যও বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, শনিবার (১৫ মে) শাতি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আট শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু কি ইসরায়েলের আত্মরক্ষা? অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট উভয় পক্ষকে শান্ত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের সামরিক শক্তির সঙ্গে ফিলিস্তিনের হামাস গোষ্ঠীর শক্তি-সামর্থ্যের কোনো তুলনাই হয় না। তবু হামাস ইসরায়েলের অন্যায় কর্মকাণ্ড ও নির্বিচার হামলার কিছু জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে মাত্র। প্রকাশিত খবরাখবর অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের তুলে দিতে গেলেই বিরোধের সূত্রপাত হয়। সে সময় ইসরায়েলি বাহিনী শক্তি প্রদর্শন করায় শুরু হয় সংঘাত। এরপর শুরু করা হয় বিমান হামলা। হামাসও এর জবাবে রকেট হামলা চালাতে থাকে। আর তাকেই এখন আত্মরক্ষার যুদ্ধ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। সারা দুনিয়া তো বটেই, ইসরায়েলের অনেক ইহুদিও এই হামলার প্রতিবাদ করেছেন। তাঁদের মতে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু তাঁর নড়বড়ে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যই আগ্রাসনের এই পথ বেছে নিয়েছেন।

হিংসার কোনো শেষ নেই। দীর্ঘ সময় ধরেই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অনেক বর্বরতা চালানো হয়েছে। হামাসকে নির্মূলের কথা বলে ২০১৪ সালেও নেতানিয়াহু সাত সপ্তাহব্যাপী আগ্রাসন চালিয়েছিলেন। তাতে জীবন গিয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার মানুষের। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করা যায়নি। হামাসকেও নির্মূল করা যায়নি। এতে শুধু হিংসাই বাড়ছে। সারা দুনিয়ার শান্তিকামী মানুষের মতো আমরাও আশা করি, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবসান হওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। জাতিসংঘকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।