kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

ঈদ যাত্রা থেমে নেই

সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা

৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবছরই ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ে। নিকটজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে মানুষ। স্বাভাবিক সময়ে ঈদের আগে আন্ত জেলা বাস কম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দিতে চালু হয় বিশেষ সার্ভিস। এ সময় বিআরটিসিও বিশেষ সার্ভিস চালু করে। ঈদের সময় দেখা যায়, আঞ্চলিক রুটের অনেক বাস চলে আসে মহাসড়কে। এসব বাস মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এবারের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। ঈদ যাত্রা রোধে কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে চলমান বিধি-নিষেধ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এমনকি ঈদের ছুটি তিন দিন নির্ধারণ করে দিয়ে সব চাকরিজীবীকে কর্ম এলাকায় থাকার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশে করোনার সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিম্নমুখী। শনাক্তের হার ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সরকারের চলমান বিধি-নিষেধের কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমছে। অর্থাৎ যাতায়াতের কারণে যাতে কোনোভাবেই সংক্রমণ না বাড়ে তার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকার বিধি-নিষেধ আরোপ করলেও থেমে নেই ঈদ যাত্রা। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও রাজধানী শহরের সীমানা পর্যন্ত চলাচল করছে সিটি বাস। প্রতিটি জেলার সীমানা পর্যন্ত ওই জেলার বাসও চলছে। এই সুযোগ নিয়ে অন্যবারের ঈদের চেয়ে এবার আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। যাচ্ছে জেলায় জেলায় বাস পাল্টিয়ে। অন্যদিকে আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষ ঢাকা ছাড়ছে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে। আবার নিম্ন আয়ের মানুষ ঢাকা ছাড়ার পরই ব্যবহার করছে নছিমন, করিমনসহ স্থানীয় পরিবহন। সব মিলিয়ে চিত্রটি এ রকম যে দূরপাল্লার বাস-ট্রেন বন্ধ রেখেও মানুষের গ্রামে ফেরা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। নানা কায়দায় ছুটছে মানুষ। গত বছরও এ রকমটি ঘটেছিল। ঈদের পর ব্যাপক হারে বেড়েছিল করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, গ্রাম অভিমুখে মানুষের ঈদ যাত্রার রাশ যদি টানা না যায়, তাহলে করোনা সংক্রমণ ফের মাথাচাড়া দিতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় পবিত্র ঈদুল ফিতর নিজ নিজ অবস্থানে থেকে উদযাপন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবন সবার আগে। যে যেখানে আছেন, সেভাবেই ঈদ উদযাপন করার অনুরোধ করেছেন তিনি। বেঁচে থাকলে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে অযথা ঘোরাঘুরি না করা তো সবার নাগরিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এই সময়ে ভ্রমণ করোনাভাইরাসের বিস্তার আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সচেতন মানুষ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপন করবে।



সাতদিনের সেরা