kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার

মহাবিপর্যয়ের কারণ হতে পারে

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু ভোক্তা ও চিকিৎসকদের অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত আচরণের কারণে মানবসভ্যতা বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। যেকোনো জীবাণুর বিরুদ্ধে অব্যর্থ অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এমন এক মাত্রায় পৌঁছে গেছে যে কিছু কিছু জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতার প্রতি উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বা অপব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক বিবর্তনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে, যা আগামী দিনে এক মহাবিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ২০১৩ সালে ১৭ নভেম্বর বিশ্বখ্যাত ল্যানসেট জার্নালে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স—নিড ফর গ্লোবাল সলিউশন’ শীর্ষক একটি দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে বিশ্বের ২৬ জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও ওষুধ বিশেষজ্ঞ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’ যে হারে বাড়ছে, তাতে করে হয়তো দুই থেকে তিন দশকের মধ্যে মানুষ সংক্রামক রোগে অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করবে। গত বৃহস্পতিবার ‘হাই লেভেল ইন্টারেকটিভ ডায়ালগ অন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ধারণকৃত ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতের মহামারি ঠেকাতে জীবাণুর ‘ওষুধ প্রতিরোধী’ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পাঁচটি পদক্ষেপে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত বছর ডিসেম্বরে কালের কণ্ঠে এক গোলটেবিল আলোচনায় আলোচকরা উল্লেখ করেছিলেন, কভিড-১৯ মহামারিতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার ঘটছে, যা সামনে ভয়াবহ বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে মানুষকে। এখনো সতর্ক না হলে বিপদ আরো বাড়তেই থাকবে। অনেকেরই অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হলে তখন প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়েটিক তার শরীরে কার্যকর হবে না। ২০১৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাচ্ছে, সে হারে নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হচ্ছে না। অন্যদিকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিশ্বব্যাপী এক মহাসংকট সৃষ্টি করেছে, যা আধুনিক ওষুধ ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তুলছে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সম্পর্কে আমাদের ধারণা পরিষ্কার নয় বলে এই সমস্যাকে আমরা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারছি না। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের ওষুধ হলো ভ্যাকসিন এবং অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু অসংখ্য জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে উন্নত-অনুন্নত সব দেশেই অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচারে অপব্যবহার চলে আসছে। অ্যান্টিবায়োটিক এমনই একটি ওষুধ, যার অপব্যবহার, অতি বেশি অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 



সাতদিনের সেরা