kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা পাকিস্তান

বাংলাদেশকে আরো সাবধান হতে হবে

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা পাকিস্তান

সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থা বাংলাদেশে বেশ জেঁকে বসেছিল। আর তাতে মদদ দিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান ও পাকিস্তানি ভাবাদর্শে পরিচালিত কিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। এই কথাগুলো আগে দেশের ভেতরে আলোচিত হলেও ক্রমেই তা উঠে আসছে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে। আমস্টারডামভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইউরোপিয়ান ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ (ইএফএসএএস) ধর্মীয় চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের গৃহীত ব্যবস্থার একটি তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করেছে। ইএফএসএএস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের নির্মূলের প্রশ্নে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অবস্থান বিপরীত মেরুতে। পাকিস্তান এখনো ‘চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে’, আর তাদের দমনে বাংলাদেশের ভূমিকা খুবই ইতিবাচক।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তুলে ধরা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে পাকিস্তানের গ্রহণ করা দ্বিমুখী নীতিকে। তারা মুখে আফগান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কথা বললেও ভেতরে ভেতরে তারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতও। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান ভারতের ভেতরে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নানাভাবে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও সন্ত্রাসীদের পাকিস্তান নানাভাবে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইএফএসএএসের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে যে পাকিস্তান আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে গত ২৩ এপ্রিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড পাকিস্তান: অ্যাক্টিং এগেইনস্ট এক্সট্রিমিজম ভার্সাস মেকিং আ শো অব অ্যাক্টিং এগেইনস্ট এক্সট্রিমিজম’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, অথচ পাকিস্তান নিচ্ছে ‘লোক-দেখানো’ নানা পদক্ষেপ। আমস্টারডামভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইএফএসএএসের গবেষণার ক্ষেত্র দক্ষিণ এশিয়া। প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী ইসলামী গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলাম এবং পাকিস্তানের তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের (টিএলপি) কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতায় ব্যাপক সহিংসতার পর হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযানে নামে পুলিশ। এই প্রেক্ষাপটে হেফাজত তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। অথচ পাকিস্তানের টিএলপি দেশটি থেকে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক করতে সরকারকে বাধ্য করে।

অতীতে এ দেশেও সন্ত্রাসবাদকে মদদ দেওয়া হয়েছে, যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় পাকিস্তানের প্রভাব অনেকটাই স্পষ্ট ছিল। আমরা চাই না, কখনো আবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় পাকিস্তানের প্রভাব ফিরে আসুক এবং তারা দেশকে পাকিস্তানের মতোই ধ্বংসের পথে নিয়ে যাক।



সাতদিনের সেরা