kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা

উন্নত দেশগুলোকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা

শিল্প বিপ্লবের পর থেকে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আজ এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে তা রোধ করা না গেলে মানবজাতির একটি বড় অংশ শিগগিরই অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। অথচ এই কার্বন নিঃসরণের ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী জি-২০ভুক্ত শিল্পোন্নত দেশগুলো। আর সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ৪৮টি দেশসহ (সিভিএফভুক্ত) সমৃদ্ধির তালিকায় নিচের দিকে থাকা ১০০টি দেশ মাত্র ৩.৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। এই বাস্তব সত্যটি তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন বন্ধে জি-২০ভুক্ত দেশগুলোকে প্রধান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে প্যারিস চুক্তি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। দুই দিনব্যাপী ‘ফরেন পলিসি ভার্চুয়াল ক্লাইমেট সামিট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে বেশি করে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। সমুদ্র সমতলের কাছাকাছি থাকা অনেক দ্বীপ দেশ এবং অনেক দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ক্রমেই তলিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেরও বিশাল উপকূলীয় এলাকার জনবসতি এবং চাষাবাদ হুমকির মুখে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা বলছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী বা প্রায় ১৩ কোটি মানুষের জীবনমান অনেক নিচে নেমে যাবে। বাংলাদেশ সাধ্যমতো চেষ্টা করছে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং ক্ষয়ক্ষতি যথাসাধ্য কমিয়ে আনতে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা লবণসহিষ্ণু ফসল উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী ও প্রশস্ত করা, বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্যারিস সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য উন্নত দেশগুলোর বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করার কথা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তহবিল হয়েছে অতি সামান্য। এমন প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা বলেন, প্যারিস চুক্তির কঠোর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই কেবল মানবজাতি এমন বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পারে। তিনি বলেন, গ্রহটিকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আগামীকাল নয়, আজ। শেখ হাসিনা প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসারও প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ নয়। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) কোনো সদস্য রাষ্ট্রই উল্লেখযোগ্য কার্বন নিঃসরণকারী নয়। তা সত্ত্বেও আমরাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বাংলাদেশ প্রতিবছর ২ শতাংশ জিডিপি হারাচ্ছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি তা ক্রমে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনার ব্যাপারে একমত হয়েছিল। কিন্তু উন্নত দেশগুলো সেই লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট উদাসীন। আমরা আশা করি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে এবং পৃথিবী নামের এই গ্রহটি মানবজাতির বসবাসের উপযোগী থাকবে।