kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

মুক্তিযোদ্ধা সমাজচ্যুত কেন

আদালতের নির্দেশ প্রতিপালিত হোক

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁর পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে—শুনতেও কষ্ট হয়। যে স্বাধীনতার জন্য সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই স্বাধীনতা দিবসেই ন্যক্কারজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেগুরিয়া ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামে। সামান্য ঝগড়াবিবাদকে কেন্দ্র করে গ্রামের সালিসে সমাজপতিরা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলীকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত দেন। সামাজিক সব কর্মকাণ্ডে তাঁকে নিষিদ্ধ করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দেওয়া আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় রুল জারি করেছেন আদালত।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার বহু ঘটনা ঘটেছে ৭৫-পরবর্তী সময়ে। সে অবস্থার অবসান হয় ১৯৯৬ সালে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার এবং তাঁদের নিয়মিত ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয় ওই সময়ে। তার পরও মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার নানা ঘটনার খবর মাঝেমধ্যেই গণমাধ্যমে আসে। এটি কাম্য নয়। মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলী তাঁকে সমাজচ্যুত করার ঘটনার প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে যে রিট আবেদন করেন তার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই আদেশ দেন। রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবী জানান, মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মার্চ রামপুরা গ্রামের সমাজপতিরা সালিস শেষে ৭৪ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলীকে সমাজচ্যুত করার যে সিদ্ধান্ত দেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সামাজিক সব কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে খাদ্যদ্রব্য, সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ করতেও নিষেধ করা হয়। হুমকি দেওয়া হয়, যারা এর অন্যথা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝগড়াঝাঁটির ঘটনায় এমন দণ্ডের বিধান বিস্ময়করই বটে। তা ছাড়া সমাজচ্যুত করার মতো গুরুদণ্ড দিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হেয় করার কোনো এখতিয়ার ওই সালিসের রয়েছে কি! এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এটাই স্পষ্ট হয় যে মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার মানসিকতা এখনো সমাজে কিছু মানুষের মধ্যে টিকে রয়েছে। আমরা এমন মানসিকতার নিন্দা জানাই। হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আদেশ দিয়ে বিড়ম্বনার হাত থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে শুধু রক্ষাই করেননি, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা একজন সৈনিককে তাঁর প্রাপ্য সম্মানও দিয়েছেন। এখন প্রশাসনকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলী ন্যায়বিচার পাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 



সাতদিনের সেরা