kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

শুভ নববর্ষ

করোনামুক্ত হোক বিশ্ব

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাগত ১৪২৮ সন। বছর ঘুরে আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। আজ বাঙালির মেতে ওঠার কথা ছিল প্রাণের টানে ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নববর্ষের উৎসবে। গানে, কবিতায়, চিত্রকলায়, আচারে, প্রথায় দেশব্যাপী নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার কথা। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এ বছর মঙ্গলের প্রত্যাশায় বেরোবে না মঙ্গল শোভাযাত্রা। শহর-নগর-গ্রাম-গঞ্জে বসবে না বৈশাখী মেলা। প্রভাতের প্রথম কিরণে কোটি বাঙালির কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত হবে না সেই উজ্জীবনী আবাহন—‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’। তার পরও বছরের প্রথম দিনে প্রার্থনা করি জীর্ণ-পুরনোকে দূরে সরিয়ে আনন্দের ডালি নিয়ে আসুক নতুন বছর। যে ঘোর আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করেছে, তা কেটে যাক। বৈশাখের তাপসনিঃশ্বাসবায়ে বছরের আবর্জনা শুধু নয়, দূর হয়ে যাক বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি। 

নববর্ষ বরণের সংস্কৃতি চিরন্তন, সর্বব্যাপী। সব দেশ, সব জনগোষ্ঠী নিজ নিজ নতুন বছরে এভাবেই মেতে ওঠে বর্ষবরণের নানা আয়োজনে। বাংলা নববর্ষেও একই রীতি চলে আসছে হাজার বছর ধরে। বৈশাখী মেলা, উৎসবের আয়োজন, হালখাতা তৈরি, মিষ্টান্ন বিতরণ, ভালো ভালো খাবার পরিবেশন—এসব বাংলার লোকায়ত ঐতিহ্যেরই অংশ। এই একটি দিনে বাংলার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। নববর্ষের উৎসব হয়ে ওঠে সর্বজনীন। অতীতে আমরা দেখেছি কিছু ধর্মান্ধ মানুষ সাম্প্রদায়িক বিভেদের দেয়াল তুলে দিতে চেয়েছে বর্ষবরণের উৎসবে। কিন্তু বাঙালি জাতি কোনো দিনই তা মেনে নেয়নি। সব ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই বাংলার প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি ঘরে উদযাপিত হয়েছে নববর্ষের উৎসব। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। সর্বনাশা করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এবার বর্ষবরণের সব উৎসব বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে। বৈশাখের প্রথম দিনে যে বাঙালি সব ভুলে বেরিয়ে আসে ঘরের বাইরে, সেই বাঙালি আজ ঘরে থাকতে বাধ্য হবে। বাঙালির অমলিন ঐতিহ্য, রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হচ্ছে না এবার। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ মঙ্গল শোভাযাত্রার বর্ণাঢ্য আয়োজনও নেই এবার। মানুষ আজ ঘরে থেকেই আবাহন করবে নতুন বছরকে।

বাঙালির সংস্কৃতি ধ্বংসের যে অপচেষ্টা তদানীন্তন পাকিস্তানে শুরু হয়েছিল, তার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে যে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল ছায়ানট, তা আজও বাঙালির এক অমলিন ঐতিহ্য। অপশক্তির বোমা হামলাও ছায়ানটের এই যাত্রাকে থামাতে পারেনি। অন্যদিকে বাঙালির ঐতিহ্য আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাস আমাদের নববর্ষ উদযাপনের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। আজকের এই বিশেষ দিনে সবার একটাই চাওয়া—‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ কেটে যাক করোনাকাল। কভিডমুক্ত হোক বিশ্ব। আমাদের অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীকে জানাই নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

 



সাতদিনের সেরা