kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

অবৈধ ইটভাটার ছড়াছড়ি

প্রকৃতিবিনাশী সব অপতৎপরতা বন্ধ করুন

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট যত মানুষ মারা যায়, তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশদূষণজনিত কারণে। এদিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এক নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। তাতে দেখা যায়, ২০১৫ সালে নানা কারণে বাংলাদেশে আট লাখ ৪৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই লাখ ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে পরিবেশদূষণজনিত কারণে। তার পরও কি পরিবেশদূষণ রোধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি? পরিবেশদূষণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হচ্ছে বায়ুদূষণ। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ইটভাটা। অথচ গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, কুষ্টিয়ায় ইটভাটা আছে ১৯১টি, এর মধ্যে ১৭১টিই অবৈধ। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর চলে আসছে এসব ইটভাটা। এগুলোতে প্রকাশ্যেই কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। অথচ স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন নির্বিকার। ইটভাটার মালিকরা বলছেন, তাঁরা প্রশাসনকে নিয়মিত টাকা দিয়েই এসব ইটভাটা চালাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত বায়ুতে থাকে অত্যধিক ক্ষতিকর বস্তুকণা। নিঃশ্বাসের সঙ্গে এগুলো শরীরে ঢুকে রোগ সৃষ্টি করে। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার, হৃদরোগ, ফুসফুসের নানা রোগ, অ্যাজমা, হাঁপানি ইত্যাদি। এসব রোগে ভুগে মানুষ ধীরে ধীরে মারা যায় বলে বায়ুদূষণের ক্ষতিটা আমাদের উপলব্ধিতে আসে কম। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতামতগুলো সরকার ও প্রশাসনের অজানা নয়। তার পরও দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এমন উদাসীনতা কেন? সরকারের সদিচ্ছা প্রকাশ পায় পরিবেশ ধ্বংস রোধে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন, ডেল্টা পরিকল্পনা, ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডসহ নানা উদ্যোগে। পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি সরকারি দলের এক কোটির বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগটিও প্রশংসিত। তাহলে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এমন অনীহা কেন? প্রশাসন উদ্যোগী না হলে পরিবেশ রক্ষায় সরকারের সদিচ্ছার বাস্তবায়ন হবে কিভাবে?

পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা না পেলে মানুষও রক্ষা পাবে না। অথচ গাছ কেটে, বন উজাড় করে, বন্য প্রাণী হত্যা করে আমরা প্রকৃতির ক্ষতি করছি। ধান খায় বলে বিষ দিয়ে হাঁস বা অন্যান্য পাখি মারা হয়। গতকালের পত্রিকায় আছে, ধান খায় বলে বাবুই পাখির বাসা ভেঙে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে কয়েক শ বাচ্চা মেরে ফেলা হয়েছে। কোথাও আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেই। তাহলে আমরা কি পরিবেশ-প্রকৃতি ধ্বংসের মাধ্যমে নিজেদের ধ্বংসকেই অনিবার্য করে তুলব?